রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার বর্বরোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল রহমান দুলু এই দাবি জানান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আসামি সোহেল রানার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিটি হুবহু পড়ে শোনান। তিনি আদালতকে বলেন, “মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, উদ্ধারকৃত আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই দম্পতির মৃত্যুদণ্ড হওয়া আবশ্যক।”
গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মাদকাসক্ত সোহেল রানা ঘটনার নির্মম বর্ণনা দিয়ে বলেছিল— ঘটনার দিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের শিশু রামিসা ঘরের বাইরে এলে সে তাকে ডেকে নিজের বাথরুমে নিয়ে যায়। সেখানে ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে সে মারা গেছে ভেবে লাশ গুম করার পরিকল্পনা করে সোহেল। এরপর ঘর থেকে ছুরি এনে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এমনকি হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করারও চেষ্টা চালায় সে।
পরবর্তীতে শিশুটির মা নিখোঁজ মেয়ের খোঁজে ওই ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে রামিসার জুতা দেখে ডাকাডাকি শুরু করলে ঘাতক সোহেল আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং সেলাইরেঞ্জ দিয়ে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (২ জুন) রামিসার বাবা-মা, বোন, প্রতিবেশী প্রত্যক্ষদর্শী এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের পর এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
আজ রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বর্তমানে আদালতে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি চলছে। এদিকে শুনানি শুরুর আগে কাঠগড়াতেই অসুস্থতা অনুভব করেন সোহেল রানার স্ত্রী ও মামলার অন্যতম আসামি স্বপ্না আক্তার। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুনরায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় শামিল করা হয়। মামলাটি এখন রায়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

