সুলতান মাহমুদ,
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুরের চেয়ারম্যান প্রফেসর মহাঃ তৌহিদুল ইসলাম গত ১১ মে ২০২৬ তারিখ থেকে বিনা নোটিশে অফিসে অনুপস্থিত থাকায় বোর্ডের প্রশাসনিক ও পরীক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
চলমান এসএসসি পরীক্ষা, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি, বাজেট অনুমোদন ও গুরুত্বপূর্ণ সভা স্থগিত হওয়ায় শিক্ষা বোর্ডজুড়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
দিনাজপুর বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে বুকের ব্যথার কথা বলে চেয়ারম্যান রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরদিন ১২ মে সন্ধ্যায় তিনি খুদে বার্তার মাধ্যমে বোর্ড সচিবকে ১৩ মে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সভা স্থগিত করার নির্দেশ দেন।
ওই সভার মূল আলোচ্যসূচির মধ্যে ছিল কম্পিউটার কেন্দ্রের জনবল নিয়োগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পদোন্নতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক অনুমোদন।
সভা স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়লে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে ঈদ বোনাস, বিল পরিশোধ, কেনাকাটা ও প্রশাসনিক অনুমোদনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজও বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে চেয়ারম্যানের দীর্ঘ অনুপস্থিতি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, চলমান এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্বশীল পদে থেকে এভাবে আত্মগোপনে থাকা কতটা গ্রহণযোগ্য।
অন্যদিকে বিদ্যালয় ও কলেজ কমিটির অনুমোদনসংক্রান্ত কাজ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার বিষয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মওদুদ- উল- করিম বাবু বলেন, চলমান এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। হাজার হাজার শিক্ষকের মধ্যে উত্তরপত্র বিতরণ করতে হচ্ছে। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে পুরো কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন, টেন্ডার ওপেনিং ও কার্যাদেশ প্রদানসহ সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ স্থবির হয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, “এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রক্রিয়াকরণের কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যথাসময়ে পরীক্ষা আয়োজন ও ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বোরহান উদ্দিন বলেন, চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রতিদিনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো পরীক্ষার প্রায় ৩৫ মিনিট আগে সেট কোড লটারির মাধ্যমে জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো। সাধারণত এই দায়িত্ব চেয়ারম্যান নিজেই পালন করে থাকেন। কিন্তু তিনি গত আট দিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ঝুঁকি নিয়েই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন,চেয়ারম্যান অসুস্থতার কথা বলে বোর্ডের নির্ধারিত মোবাইল ফোনটি জমা দিয়ে চলে যান। এরপর থেকে ব্যক্তিগত মোবাইলেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমন গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা চেয়ারম্যান ছাড়া পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর।
দিনাজপুর বোর্ড সচিব প্রফেসর নূর মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে বোর্ডের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রস্তুত, অর্থ বরাদ্দ, কর্মচারীদের বিজি প্রেসে পাঠানো, আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নসহ নানা প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, চেয়ারম্যান তার পরিবারের মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করছেন না। পরে একটি খুদে বার্তায় জানিয়েছেন তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের ফাইল ঢাকায় পাঠাতে বলেছেন এবং সমন্বয় সভায় যোগ দিতে তাকে অফিসিয়াল আদেশ পাঠানোর অনুরোধ করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর তৌহিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

