আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির এক নেতাকে মারধরের ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তা ও হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা এবং মারতে তেড়ে আসার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় জাতীয় ছাত্রশক্তির মুখ্য সচিব উলফাতুর রহমান রাকিবকে মারধরের ঘটনার খবর সংগ্রহে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী প্রক্টরের সামনেই উলফাতুর রহমান রাকিবকে মারধর করেন। পরে তাঁর বক্তব্য নিতে গেলে কয়েকজন ছাত্রদল নেতা সাংবাদিকদের বাধা দেন এবং হুমকি দিতে থাকেন।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সূর্যসেন হল ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. সাদমান আল তাছিন সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “সাংবাদিক হইছে তো কী হইছে।” একই সময়ে দপ্তর সম্পাদক আবু হাসনাত মো. রুকনুদ্দিন বলেন, “পুরা ঘাড়াই ফেলব মিয়া।” একপর্যায়ে তাঁরা সাংবাদিকদের মারতে উদ্যত হয়ে তেড়ে এলে উপস্থিত কয়েকজন সিনিয়র নেতা তাঁদের নিবৃত্ত করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, “সংঘর্ষের আশঙ্কার বিষয়ে আগে থেকেই তথ্য পাওয়ায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সংঘর্ষ শুরু হলে আমরা পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে ছবি, ভিডিও ধারণ ও তথ্য সংগ্রহ করছিলাম। এ সময় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাদমান আল তাছিন এবং দপ্তর সম্পাদক আবু হাসনাত মো. রুকনুদ্দিন আমাদের কাজে বাধা দেন এবং অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেন।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে এ ধরনের হস্তক্ষেপ ও অশালীন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপই নয়, বরং জনগণের তথ্য জানার সাংবিধানিক অধিকারও ক্ষুণ্ন করে। চবি ছাত্রদলের উচিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো নেতাকর্মী সাংবাদিকদের কাজে বাধা না দেন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।”
আরেক ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও সমকাল-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মেহেদি হাসান ইমন বলেন, “আমরা মারধরের শিকার উলফাতুর রহমান রাকিবের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলাম। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী চবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানাকে বুকে ধাক্কা দেন। তাঁরা বলেন, ‘এখন কিসের সাক্ষাৎকার নিতে হবে?’ এরপর তাঁদের সঙ্গে আমাদের কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “সাক্ষাৎকার নেওয়া ও বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকদের কাজ। এ কাজে আমাদের কেউ বাধা দিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরোয়ার্দী বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের আয়নার মতো। তাঁদের সঙ্গে হাতাহাতি বা হুমকি-ধমকির প্রশ্নই আসে না। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

