জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঁর মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে লাশ উত্তোলনপূর্বক নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এই আদেশ দেন। সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ বুধবার (১০ জুন) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, “হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সালমান শাহর লাশ কবর থেকে উত্তোলন এবং ময়নাতদন্তের আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। প্রাতিষ্ঠানিক কিছু আইনি প্রক্রিয়া শেষ করেই আমরা সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণ থেকে লাশ উত্তোলন করে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করব।”
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার বাসা থেকে সালমান শাহর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। তৎকালীন সময়ে রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে সালমান শাহর পরিবার শুরু থেকেই একে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করে আসছিল।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর, গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের এই নির্দেশনার পরদিন, ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রমনা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে সালমানের মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও ছোট ভাই শাহরান শাহ ইস্কাটনের বাসায় দেখা করতে গেলে স্ত্রী সামীরা হক ও কর্মচারী আবুল জানান সালমান ঘুমাচ্ছেন।
পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফোন পেয়ে তারা দ্রুত বাসায় গিয়ে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে আছেন। এজাহারে বলা হয়, তখন কয়েকজন বহিরাগত নারী সালমানের হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসা ছিলেন।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান স্বজনরা। প্রথমে হলি ফ্যামিলি ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর পর তাকে সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়।
দায়েরকৃত এই হত্যা মামলায় নামীয় ১১ জনসহ বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিরা হলেন:
১. সামীরা হক (সালমান শাহর স্ত্রী)
২. আজিজ মোহাম্মদ ভাই (শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক)
৩. লতিফা হক লুছি
৪. ডন (চলচ্চিত্রের খলনায়ক)
৫. ডেবিট
৬. জাভেদ
৭. ফারুক
৮. রুবি (মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের মালিক)
৯. আব্দুস সাত্তার
১০. সাজু
১১. রেজভি আহমেদ ফরহাদ
তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি জানিয়েছে, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন কিনা, তা নিশ্চিত হতেই এই বৈজ্ঞানিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আসামিদের মধ্যে কেউ ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।

