রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে এক দশক আগে ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে সংঘটিত ‘হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের দপ্তরে তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রসিকিউটর মঈনুল করিম জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় বেঞ্চে অভিযোগপত্রটি গ্রহণের বিষয়ে শুনানির সময়সূচি নির্ধারিত রয়েছে।
হেভিওয়েট আসামিদের তালিকা
তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও বিগত সরকারের একাধিক উচ্চপদস্থ সামরিক, প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী রাজনীতিবিদকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন:
অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আজিজ আহমেদ (সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান)
বেনজীর আহমেদ (সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক ও র্যাব মহাপরিচালক)
এ কে এম শহীদুল হক (সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক)
শামসুল হক টুকু (সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী)
তদন্তে ৫৮টি হত্যাকাণ্ডের নথিভুক্ত তথ্য
এর আগে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি (চিফ প্রসেকিউটর) অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে ঢাকার ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরসহ দেশের চারটি জেলায় (চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও বাগেরহাট) হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনকারীদের ওপর পরিচালিত যৌথ অভিযানের বিষয়ে দীর্ঘ তদন্ত সম্পন্ন করেছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে: ক্র্যাকডাউন ও সরাতে চালানো যৌথ অভিযানে ৫৮টি প্রত্যক্ষ হত্যাকাণ্ডের সুস্পষ্ট প্রমাণ ও তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় বেআইনি আটক, নির্যাতন, লাশ গুমের চেষ্টা এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগের একাধিক অভিযোগ যুক্ত করা হয়েছে।
আদালতে অভিযোগপত্রটি আনুষ্ঠানিক শুনানির মাধ্যমে গৃহীত হলে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ও বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল সূত্র।

