মুহাম্মদ মহসিন আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :
বছরের পর বছর অবহেলা, সংস্কারের নামে অর্থ লোপাট, অপরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণ ও টানা বর্ষণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা–সিঙ্গারবিল আঞ্চলিক সড়কটি এখন যেন এক দীর্ঘ জনদুর্ভোগের প্রতিচ্ছবি।
প্রায় ১৫ কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে থাকা খানাখন্দ, ভাঙাচোরা অংশ ও জলাবদ্ধতায় সড়কটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বিজয়নগরকে আখাউড়া উপজেলা ও সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি টেকসই সংস্কারের আওতায় না আসায় সমস্যাটি দিন দিন প্রকট হচ্ছে। দ্রুত এই সড়কটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে এনে আধুনিক ও টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ করা জরুরি। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর–বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে।
আখাউড়া স্থলবন্দরসহ সিলেট–কুমিল্লা রুটের যানবাহনের জন্য এটি একটি বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মোট ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের ১৫ কিলোমিটার বিজয়নগরে। সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, তদারকিতে দায়সারা উদাসীন মনোভাব, ঠিকাদারের রাজনৈতিক প্রভাবে সড়কটি যথাযথ সংস্কার না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার স্থানীয়রা।
সম্প্রতি টানা ভারী বৃষ্টিতে সড়কের বেহাল দশা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে কঙ্কালসার অবস্থা, কোথাও গভীর গর্ত—আবার কোথাও জমে থাকা পানিতে সড়ক পরিণত হয়েছে ছোট ছোট জলাধারে। ফলে যানবাহন চলাচল যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তেমনি পথচারীদের জন্যও এটি হয়ে উঠেছে এক আতঙ্কের নাম।
সরেজমিনে চান্দুরা থেকে সিঙ্গারবিল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, প্রায় পুরো সড়কজুড়েই একই চিত্র। কোথাও রাস্তা দেবে গিয়ে বড় বড় গর্ত, কোথাও উঁচু-নিচু ঢেউয়ের মতো অবস্থা—যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে। এর সঙ্গে অনেক বাড়ির পানি সরাসরি সড়কে ফেলার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রায় এক বছর আগে ইটের খোয়া ফেলে কিছু অংশ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ছিল সাময়িক—বর্তমানে সেই অংশগুলোই আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সড়কে খানাখন্দের কারণে ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ প্রায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার। সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগে উন্নীত করে, টেকসই সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে চান্দুরা–সিঙ্গারবিল সড়ককে, জনদুর্ভোগের প্রতীক থেকে একটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যোগাযোগপথে পরিণত করা হোক।

