নরসিংদী প্রতিনিধি:
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অপপ্রচার, কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে নরসিংদীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলা যুবদল। ‘রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি বন্ধ করো, চাই সুস্থ ধারার রাজনীতি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার জেলা শহরে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর খান দীপক ও সাজেদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নরসিংদী জেলা যুবদলের সভাপতি মোহসীন হোসাইন বিদ্যুৎ এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান সরকার হাসান। এছাড়াও জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা এবং পৌর যুবদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মুনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন-এর পক্ষ থেকে তিনি নরসিংদীর নেতাকর্মীদের সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে এসেছেন। সাংগঠনিক সপ্তাহ উপলক্ষে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়, সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করতেই তাদের এই সফর।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত কঠিন সময় অতিক্রম করেছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে নেতাকর্মীরা ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন।
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, একসময় যে নেতাকর্মীরা সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন, একই প্লেটে খাবার খেয়ে এবং সব ধরনের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনীতি করেছেন, আজ তাদের মধ্যেই দূরত্ব, বিভক্তি ও অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের আদর্শে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, তারেক রহমান একটি কল্যাণমুখী, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, অসহায় পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্রকাঠামো মেরামত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি কাজ করছে। এ অবস্থায় জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রত্যেক নেতাকর্মীর দায়িত্ব হলো জনগণের কল্যাণে কাজ করা, দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষা করা এবং একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।
দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল, চাঁদাবাজি কিংবা অবৈধ সুবিধা গ্রহণের প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সংগঠনের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে নেতাকর্মীদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন দলের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং দুঃসময়ে দলের পাশে ছিলেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।
সুবিধাবাদী ও দুঃসময়ের বিরোধীদের কোনোভাবেই নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া যাবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নের সাংগঠনিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে এবং তৃণমূল থেকে সৎ, যোগ্য ও ত্যাগী নেতৃত্বকে সামনে আনা হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করতে হবে। কোনো ধরনের অপপ্রচার, রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি কিংবা অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণের পাশাপাশি সুস্থ, শালীন ও গণমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা রাজনৈতিক সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্য অটুট রেখে জনকল্যাণমূলক রাজনীতি এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

