সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর :
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী আমবাড়ী পশুর হাটসহ জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী ৬৮ টি পশুর হাট এখন জমজমাট।
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে হাট প্রাঙ্গণ। দেশীয় গরু ও ছাগলের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় কেনাবেচা চলছে বেশ প্রাণবন্ত পরিবেশে। বিশেষ করে মাঝারি আকারের দেশি গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি গবাদিপশু। এর মধ্যে গরু রয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৬টি, মহিষ ২৪৮টি, ছাগল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯০টি, ভেড়া ১৩ হাজার ৭২৯টি এবং অন্যান্য প্রাণি রয়েছে ১০টি।
জেলায় কুরবানির সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ২৬২টি পশু। সে হিসেবে উদ্বৃত্ত রয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৬১টি পশু।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও খামারিরা আশা করছেন, স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও দিনাজপুরের পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা নিজেদের সাধ্য ও সামর্থ্যের মধ্যে পছন্দের পশু কিনতে দরদাম করছেন। অন্যদিকে খামারিরাও সীমিত লাভে দীর্ঘদিন যত্নে লালন-পালন করা পশু বিক্রি করছেন। তবে শেষ মুহূর্তে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিক্রেতারা।
ঢাকা থেকে আমবাড়ী পশুর হাটে গরু কিনতে আসা সাকিল আহমেদ বলেন, “এবার গরুর দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। তারপরও কুরবানির জন্য ভালো মানের দেশি গরু কিনতে এসেছি। ভারতীয় গরু না থাকায় দেশি গরুর কদর বেড়েছে।
ক্রেতা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি পরিবারের জন্য মাঝারি সাইজের একটি গরু কিনেছি। দাম একটু বেশি হলেও গরুর স্বাস্থ্য ভালো এবং দেশি হওয়ায় সন্তুষ্ট আছি।
আরেক ক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, বাজারে বড় গরুর চেয়ে মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকায় সবাই এই ধরনের গরুই বেশি কিনছেন।
বিক্রেতা খামারি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, প্রায় এক বছর ধরে গরুটি লালন-পালন করেছি। খাবারের দাম অনেক বেড়েছে, তাই দামও কিছুটা বেশি। তারপরও ক্রেতাদের কথা বিবেচনা করে বিক্রি করছি।
খামারি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এখনও পুরোপুরি জমে ওঠেনি। আশা করছি ঈদের আগের দুই-তিন দিনে বিক্রি আরও বাড়বে। দিনাজপুরের গরুর চাহিদা দেশের বিভিন্ন জেলায় রয়েছে।
আরেক বিক্রেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, দেশি ছাগলেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি পরিবারের জন্য ছাগল কিনছেন অনেকে।
আমবাড়ী পশুর হাটের রশিদ লেখক মো. সোহেল রানা বলেন, “এবার হাটে পর্যাপ্ত দেশীয় পশু উঠেছে। ভারতীয় গরু না এলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি অনেক ভালো। নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহযোগিতায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, “জেলায় ২১টি স্থায়ী ও ৪৭টি অস্থায়ী পশুর হাটসহ মোট ৬৮টি পশুর হাট বসেছে। এসব হাটে ৩৮টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এছাড়া ১৩টি উপজেলায় পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। খামারিদের পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বিভিন্ন হাটে গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে কুরবানির উপযোগিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “দিনাজপুরে এবার পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলাতেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

