সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারে আলোচিত এক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। জমিজমা-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আপন ভাইকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন নিহত আব্দুল মতিনের ভাই আব্দুল মজিদ (৫০),আব্দুল আজিদ (৪৩), আব্দুল রুফ (৫৬),বোন আয়েশা আক্তার রত্না (৩৭) এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০)।
পুলিশ জানায়,নিহত আব্দুল মতিনের সঙ্গে তাঁর ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলছিল। তদন্তে জানা গেছে, ওই বিরোধের জের ধরে আব্দুল মজিদ হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভাড়াটে লোক নিয়োগ দেন। গত ২৮ জুন আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুল মতিন আদালতের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হলে পরিকল্পনাকারীদের সহযোগীরা তাঁকে অনুসরণ করে। পরে নির্জন স্থানে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ সদর উপজেলার সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশের ঢালের পাকা সড়কে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না আসায় নিহতের স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোন বন্ধ পেয়ে তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে স্বামীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মরদেহ শনাক্ত করেন। এ সময় মরদেহের হাত-পা বাঁধা এবং গলায় শার্ট প্যাঁচানো ছিল। এছাড়া মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে ২৮ জুন রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নোবেল চাকমার তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার একটি বিশেষ তদন্ত দল কাজ শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মূল পরিকল্পনাকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

