আনোয়ার হাসান চৌধুরী, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সি-গাল পয়েন্টে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া পর্যটক মোহাম্মদ আবিরের (১৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা।
সোমবার (১ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কক্সবাজারের নাজিরারটেক উপকূল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ হন তিনি।
নিহতের স্বজনদের একজন জানান, আবির নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে তারা দ্রুত সি-গাল পয়েন্টে পৌঁছান এবং সারারাত সৈকতে অবস্থান করে খোঁজাখুঁজি চালান। সোমবার ভোরে কয়েকজনকে নিয়ে নাজিরারটেকের দিকে অনুসন্ধানে বের হলে সকাল ৫টা ২৮ মিনিটের দিকে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় আবিরকে দেখতে পান। পরে তাকে তীরে তুলে রাখা হয় এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লাইফগার্ড ও প্রশাসনকে জানানো হয়।
সি সেফ লাইফগার্ড সংস্থার সুপারভাইজার মো. ওসমান গনি বলেন, রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টের মধ্যবর্তী এলাকায় দুই পর্যটক গোসলে নামেন। এ সময় লাইফগার্ড সদস্যরা একজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও অপরজন নিখোঁজ হন। খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। রাত প্রায় ৮টা পর্যন্ত ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, নিখোঁজ পর্যটকের স্বজনদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়। সোমবার সকালে নাজিরারটেক উপকূলে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান স্বজনরা। পরে তারা লাইফগার্ড সদস্যদের অবহিত করলে বিষয়টি প্রশাসন, বিচকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরেও যোগাযোগ করা হয়।
ওসমান গনি জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে নিহতের স্বজনরা প্রশাসনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহিদুল আলম বলেন, মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিহত আবির পুরান ঢাকার লালবাগের শহীদনগর এলাকার বাসিন্দা এবং ইলিয়াস মুন্সীর ছেলে। তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণে কক্সবাজারে এসেছিলেন। রোববার সকাল ৭টায় তারা কক্সবাজার পৌঁছে একটি গেস্ট হাউজে ওঠেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সি-গাল পয়েন্টে গোসলে নামলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

