পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার প্রবণতায় এক অভাবনীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ওপার বাংলায় পদ্ম শিবিরের সরকার গঠনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে, যা রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণকে ওলটপালট করে দিতে পারে।
বাংলাদেশ সময় আজ বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় প্রধান দুই শিবিরের অবস্থান: ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি): ১৮২টি আসনে এগিয়ে। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC): ১০৯টি আসনে এগিয়ে।
পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার হলো ১৪৮। গণনার বর্তমান গতিপ্রকৃতি বজায় থাকলে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অনায়াসেই সেই লক্ষ্যমাত্রা পার করে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজ্য বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিবাচক এই প্রবণতা দেখে ইতোমধ্যেই জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যে তাঁর দলই পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। বিজেপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস গত এক দশক ধরে ক্ষমতায় থাকলেও, এবারের প্রাথমিক গণনায় তারা বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও উত্তরবঙ্গের আসনগুলোতে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান এই ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
যদিও এটি এখন পর্যন্ত কেবল প্রাথমিক গণনার প্রবণতা (Trends), তবে ১৮২টি আসনে এগিয়ে থাকা বিজেপির জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। দুপুর নাগাদ চূড়ান্ত জয়-পরাজয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। যদি শেষ পর্যন্ত বিজেপি সরকার গঠন করে, তবে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় স্তরেই একই দলের শাসন বা ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, যা প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করতে পারে।

