আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল প্রতিনিধি:
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের ১২৭ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পরপরই সংগঠনটির অভ্যন্তরে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির ও ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচিত কয়েকজনের পদায়ন, দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ পড়া, একই নাম একাধিকবার অন্তর্ভুক্তি এবং সিনিয়র-জুনিয়র সমন্বয়হীনতার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছে সদ্যঘোষিত এই কমিটি।
শনিবার (২ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এ কমিটিতে মোট ১২৭ জনকে বিভিন্ন পদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৪০ জন ভোটারের অংশগ্রহণে এ নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পন্ন হয়।
প্রকাশিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শান্ত ইসলাম আরিফ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতি আশিক ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. ইত্তেসাফ-আর-রাফি।
তবে কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের আদর্শিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অতীতে ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির ও ছাত্র অধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও দাবি ওঠে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন সক্রিয় নেতা বলেন, ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ঝুঁকি নিয়ে রাজনীতি করা, কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নেওয়া এবং সংগঠনের দুঃসময়ে পাশে থাকা অনেক ত্যাগী কর্মীকে এ কমিটিতে মূল্যায়ন করা হয়নি। উল্টো দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা কিংবা হঠাৎ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাঠে যারা ছিল তাদের বাদ দিয়ে কাগুজে নেতাদের পদ দেওয়া হয়েছে। এতে কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।”
শুধু তাই নয়, প্রকাশিত তালিকায় একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার থাকার অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ‘জিহাদুল ইসলাম’ নামটি দুইবার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কমিটি প্রণয়নে অসাবধানতা ও সমন্বয়হীনতার বিষয়টি সামনে এসেছে। এছাড়া সিনিয়রিটি বিবেচনা না করে জুনিয়রদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় পুরোনো নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটে নেতৃত্ব নির্ধারণে রাজনৈতিক অতীত, সাংগঠনিক ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং জ্যেষ্ঠতার বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কথা। কিন্তু সদ্যঘোষিত কমিটিতে এসব মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
কমিটি নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নবগঠিত কমিটির কয়েকজন সদস্য দাবি করেছেন, সকলকে সমন্বয় করেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে ববি ছাত্রদলে সাংগঠনিক গতি ফেরানোর সুযোগ তৈরি হলেও শুরুতেই যদি অভিযোগ ও অসন্তোষ দানা বাঁধে, তাহলে তা সংগঠনের ঐক্য ও কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনুপ্রবেশ ও পদবাণিজ্যের অভিযোগের সুষ্ঠু ব্যাখ্যা না এলে এ বিতর্ক আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

