এম. এ. আউয়াল আশিক:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইল ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানাধীন সাতটি দোকান থেকে বর্তমানে মাসিক ভাড়া আদায় করা হচ্ছে মাত্র ১ হাজার ৫০ টাকা। প্রায় ২৫ বছর আগে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে নির্ধারিত এই ভাড়া এখনো বহাল থাকলেও চুক্তিপত্র একবারও নবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এসব দোকান থেকে প্রতি মাসে অন্তত ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না করায় ইউনিয়ন পরিষদ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দোকানগুলোর একজন ভাড়াটিয়া ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, “টেন্ডারের মাধ্যমে আমরা সাতজন সাতটি দোকানের পজিশন নিয়েছিলাম। সে অনুযায়ী আমি আমার দোকানের জন্য ইউনিয়ন পরিষদকে মাসিক ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে আসছি। চুক্তিতে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। চুক্তিপত্র দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”
এ বিষয়ে বাসাইল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. আক্তার হোসেন বলেন, “তৎকালীন চেয়ারম্যান একটি চুক্তির মাধ্যমে দোকানগুলো ভাড়া দিয়েছিলেন। সেই চুক্তির ভিত্তিতেই এখনো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব ও ব্যবস্থাপনার স্বার্থে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চুক্তি নবায়ন না হওয়া এবং বাজারমূল্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভাড়া বহাল থাকায় ইউনিয়ন পরিষদ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দ্রুত চুক্তি পর্যালোচনা করে বর্তমান বাস্তবতার আলোকে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

