সংবাদ উপস্থাপকদের পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে জারি করা বিতর্কিত ‘ড্রেস কোড’ সংক্রান্ত নির্দেশনা শেষ পর্যন্ত বাতিল করেছে বাংলাদেশ বেতার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রোববার (২৪ মে) নতুন একটি অফিস আদেশ জারির মাধ্যমে আগের সেই নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এএসএম জাহীদ স্বাক্ষরিত নতুন আদেশে জানানো হয়েছে, সংবাদ উপস্থাপকদের পোশাক বিষয়ে পূর্বে জারি করা অফিস আদেশটি এখন থেকে আর কার্যকর থাকবে না।
গত ৪ মে বাংলাদেশ বেতারের কেন্দ্রীয় বার্তা সংস্থার পরিচালক (বার্তা) তানিয়া নাজনীন স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। সেখানে ফেসবুক লাইভে সংবাদ বুলেটিন প্রচারের বিষয়টি মাথায় রেখে নারী ও পুরুষ সংবাদ উপস্থাপকদের জন্য পৃথক এবং সুনির্দিষ্ট পোশাকবিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
শাড়ি অথবা ওড়নাসহ সালোয়ার-কামিজ পরার বাধ্যবাধকতা ছিল। পাশাপাশি বড় আকারের টিপ ব্যবহার না করা এবং একপাশে ওড়না না পরার জন্য বিশেষভাবে বলা হয়েছিল।
ফুলহাতা শার্ট ও টাই পরিধানের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে বিশেষ দিবস বা উৎসবে পাঞ্জাবি পরার সুযোগ রাখা হলেও টি-শার্ট ও গেঞ্জি পরিধান নিষিদ্ধ ছিল।
সম্প্রতি ওই অফিস আদেশের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে উপস্থাপকদের সাজসজ্জা ও পোশাক নিয়ে এমন কড়াকড়িকে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। বিশেষ করে নারী উপস্থাপকদের টিপ পরা বা ওড়না ব্যবহারের ধরন নির্ধারণ করে দেওয়াকে অনেকে ‘লিঙ্গবৈষম্যমূলক’ হিসেবেও সমালোচনা করেন।
সমালোচকদের মতে, সংবাদ উপস্থাপনার ক্ষেত্রে মূল গুরুত্ব হওয়া উচিত পেশাদারিত্ব, উচ্চারণ ও সংবাদ পরিবেশনের দক্ষতায়; ব্যক্তিগত পোশাকের ধরনে নয়। নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে অবশেষে কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান থেকে সরে আসে এবং বিতর্কিত সেই নির্দেশনা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ বেতারের সংবাদ উপস্থাপকদের পোশাক নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটল। উপস্থাপকরা এখন থেকে তাদের চিরাচরিত মার্জিত ও পেশাদার পোশাকেই সংবাদ পরিবেশন করতে পারবেন।

