২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। ঠিক এই মুহূর্তে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়ে এক বিতর্কিত ও অভিনব প্রস্তাব তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি।
যোগ্যতার ভিত্তিতে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া ইরানকে বাদ দিয়ে সেখানে ইতালিকে স্থলাভিষিক্ত করার জন্য তিনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে আবেদন জানিয়েছেন। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাম্পোলি ইতিমধ্যে এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ইতালীয় বংশোদ্ভূত জাম্পোলি দাবি করেছেন, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতালির বিশ্বকাপে থাকার ঐতিহ্যগত অধিকার রয়েছে। তার মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করলে টুর্নামেন্টের আকর্ষণ বাড়বে।
ইতালি সমর্থকদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জাম্পোলির এই প্রস্তাব নিয়ে খোদ ইতালি সমর্থকদের মধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেক কট্টর আজুরি সমর্থক এই প্রস্তাবকে ‘অসৎ’ এবং ‘ফুটবল ইতিহাসের কলঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, ইতালি বাছাইপর্বের প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা হারিয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে হেরে এভাবে ‘পেছনের দরজা’ দিয়ে বিশ্বকাপে প্রবেশের চেষ্টা ইতালির মতো বড় দলের মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ণ করবে।
একজন সাধারণ সমর্থক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ইরান মাঠের লড়াইয়ে যোগ্যতা দেখিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছে। রাজনৈতিক কারণে তাদের বাদ দিয়ে ইতালিকে সুযোগ দেওয়া ফিফার নিরপেক্ষতা ও ‘ফেয়ার প্লে’ নীতির চরম পরিপন্থী। জাম্পোলির এই শয়তানি চিন্তাভাবনা ফুটবলকে কলঙ্কিত করবে।”
নিরাপত্তা ও ভেন্যু বিতর্ক ২০২৬ বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড এবং মিশরের বিপক্ষে ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটেল এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে ফিফা সেই আবেদন নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, নির্ধারিত ভেন্যুতেই খেলা হবে এবং সব দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আয়োজক দেশগুলোর।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি এক মন্তব্যে ইরানি দলকে স্বাগত জানালেও তাদের ‘জীবন ও নিরাপত্তা’ নিয়ে রহস্যময় শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে জাম্পোলির প্রস্তাবকে অনেক বিশ্লেষক ইরানের ওপর মানসিক চাপ তৈরির একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।
ফিফার অবস্থান যদিও জাম্পোলি তার প্রস্তাব নিয়ে ফিফা সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছেন, তবে ফিফা এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থানে অনড়। গত সপ্তাহে জান্নি ইনফান্তিনো স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরান যথাসময়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে বলে তারা আশা করছেন।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবলের মতো জনপ্রিয় ইভেন্টে রাজনীতি টেনে আনা বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে। যদি আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো দলের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অজুহাতে তাদের বাদ দিতে চায়, তবে উল্টো যুক্তরাষ্ট্রকেই শাস্তির আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন ফুটবল ভক্তরা।
যোগ্য দল হিসেবে ইরান বর্তমানে তাদের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। এখন ফুটবল বিশ্বের নজর ফিফার দিকে—তারা কি কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে, নাকি ফুটবলের ‘ফেয়ার প্লে’ নীতিকে সমুন্নত রাখবে?
সূত্র: আল-জাজিরা, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

