দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকর হতে পারে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেয়নি। ফলে লাখো চাকরিজীবীর মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহল দুটোই বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা থাকলেও নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়, পে-কমিশন কিংবা সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাননি। এতে চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—নতুন বেতন কাঠামো আদৌ কবে কার্যকর হবে এবং বাস্তবায়নের ধরন কী হবে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পরও সরকারের নীরবতা কর্মচারীদের হতাশ করছে। তাদের মতে, নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বক্তব্য এলেও পে-স্কেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনো কোনো পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়নি।
সংগঠনটির দাবি, গত এক যুগে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক সরকারি কর্মচারী আর্থিক চাপে রয়েছেন। তাই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিলম্ব না করে একসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সুবিধা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, সরকার নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করছে। সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম বছরে মূল বেতনের একটি অংশ, পরবর্তী বছরে অবশিষ্ট অংশ এবং পরে অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা কার্যকর করা হতে পারে। তবে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হতে যাওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবম পে-স্কেল সম্পর্কে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসবে। সেদিনই পরিষ্কার হবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান কী এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে কিনা।

