আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন। পাশাপাশি শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকবেন।
ভারতের কংগ্রেসে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সামনে রেখে যেভাবে নেতৃত্ব সাজানো হয়েছে, আওয়ামী লীগেও সেই মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সায়মা ওয়াজেদ কিছুদিন আগেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্তে অনির্দিষ্টকালীন ছুটিতে পাঠানোর পর তিনি এখন পূর্ণ সময় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। মায়ের ভাষণের খসড়া তৈরি, কর্মসূচি নির্ধারণ, এমনকি দর্শনার্থীদের সঙ্গে বৈঠকেও তার ভূমিকা বেড়েছে। অপরদিকে জয় ওয়াজেদ যুক্তরাষ্ট্রে থেকে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রেখেছেন।
শেখ হাসিনার এই তথাকথিত উত্তরসূরি পরিকল্পনা নিয়ে দলের ভেতরে সরাসরি আলোচনা না হলেও শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেই বিষয়টি অবগত। তবে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আরাফাত দাবি করেছেন, এ নিয়ে দলের মধ্যে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তার ভাষায়, দলের অগ্রাধিকার বর্তমানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, পদ-পদবি বণ্টন নয়।
ভারতের কংগ্রেসে সোনিয়া গান্ধীর অবসরের পর রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা যেভাবে নেতৃত্ব ভাগাভাগি করছেন, শেখ হাসিনা তার ছেলে-মেয়েকে একইভাবে সামনে আনতে চাইছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ যেহেতু ঐতিহ্যগতভাবেই পরিবারকেন্দ্রিক দল, তাই এই ধরণের উত্তরসূরি পরিকল্পনা খুবই স্বাভাবিক।
একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কাঠামোয়ও কিছু পরিবর্তন এসেছে। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কার্যত উপেক্ষিত থাকলেও কলকাতায় অবস্থানরত তিন নেতা— আসাদুজ্জামান খান কামাল, আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাসিম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক— বর্তমানে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন সায়মা ওয়াজেদ। অন্যদিকে জয় ওয়াজেদের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি টিম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান তৈরি করছে।
৭৬ বছরের পুরনো আওয়ামী লীগ বর্তমানে সবচেয়ে সংকটময় সময় পার করছে। তবে নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ এখনও শক্তভাবে দলের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের হাতেই রয়েছে, যা আরও স্পষ্ট হচ্ছে শেখ হাসিনার নতুন পরিকল্পনায়।

