‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক’—এই সুমধুর ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক পর্ব ‘উকুফে আরাফা’ পালনে আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সেখানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান। পাপমুক্তি ও আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় বিশ্ব মুসলিমের এই মহাসম্মিলন এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করেছে।
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন। মহানবী (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী, “আরাফাতই হলো হজ”। আজ ফজরের পর থেকেই হাজিরা মিনা থেকে দলে দলে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হতে শুরু করেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করে জিকির, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।
এই আরাফাতের ময়দানেই জাবালে রহমত (রহমতের পাহাড়) অবস্থিত, যার পাদদেশে দাঁড়িয়ে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সেই ভাষণে তিনি ইসলামি ভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার এবং সমতার যে অমীয় বাণী দিয়েছিলেন, হাজিরা আজ সেই স্মৃতি রোমন্থন করে বিশ্ব শান্তির দোয়া করছেন।
আরাফাতের মসজিদে নামিরাহ থেকে হাজিদের উদ্দেশ্যে হজের বিশেষ খুতবা প্রদান করা হয়। খুতবা শেষে হাজিরা একই সঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই পুণ্যভূমিতে অবস্থান শেষে তারা মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন, যেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন এবং প্রতীকী শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।
সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্যমতে, হাজিদের নিরাপত্তা ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে হাজিদের পর্যাপ্ত পানি পান এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি ও ড্রোনের মাধ্যমে পুরো ময়দান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
পবিত্র হজের এই মহাসম্মিলন বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিক—এটিই এখন সকল হাজির অন্তরের প্রার্থনা।

