দুমকি, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি:
দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডে চিংগরিয়া-মাদারবুনিয়া খালের নির্ধারিত এলাইনমেন্ট পরিবর্তন করে ভোগদখলীয় রেকর্ডীয় জমির ওপর দিয়ে খাল খননের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবার।
অভিযোগে বলা হয়, খালের জমির অবৈধ দখলদার হিসেবে পরিচিত একটি প্রভাবশালী পরিবার ঠিকাদারের যোগসাজশে সরকারি খালের নির্ধারিত অংশ পরিবর্তন করে অন্যের রেকর্ডীয় জমির ওপর দিয়ে খাল খননের চেষ্টা করছে। এতে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারসহ কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন বলেও অভিযোগ করেন আবেদনকারী মো. আবুল কালাম মুন্সী।
গত বুধবার (১৬ মে) ইউএনও বরাবর দেওয়া অভিযোগে চরগরবদী গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল কালাম মুন্সী জানান, এসএ ৩২১ ও ৩২৮ নম্বর খতিয়ানভুক্ত বিভিন্ন দাগে মোট ৬৩৪ শতাংশ জমি তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছে। জমির মালিক হোসেন আলী মুন্সীর মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা ওই জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ভোগদখলীয় ৪৪৫৫ ও ৪০৭০ নম্বর দাগের পশ্চিম পাশে সরকারি খাল রয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর উদ্যোগে সেই খাল খননের জন্য টেন্ডারও হয়েছে। তবে সরকারি খালের পরিবর্তে এলাইনমেন্ট পরিবর্তন করে তাদের জমির ওপর দিয়ে খাল কাটার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মো. আবুল কালাম মুন্সী বলেন, তারা খাল খননের বিরোধী নন। সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে নির্ধারিত খাল অংশে খনন কাজ করা হলে কোনো আপত্তি থাকবে না। তবে ভোগদখলীয় জমিতে খাল খননের চেষ্টা বন্ধের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বরত এসও মুহাইমিনুল ইসলাম আবির লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন জানিয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত কারও রেকর্ডীয় জমিতে খাল খনন করা হয়নি। আপত্তির জায়গা রেখে অপর প্রান্ত থেকে খনন কাজ চলছে এবং সমঝোতার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঠিকাদার মো. মিলন মিয়া বলেন, উভয় পক্ষ তার আত্মীয় হওয়ায় তিনি সমঝোতার মাধ্যমে স্বার্থ রক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে মুন্সীবাড়ির লোকজন কোনো সিদ্ধান্ত মানছে না বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অ.দা.) রওজাতুন জান্নাত এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায় নি।

