ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে গাছ কাটা, জমি জবরদখল ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।
সোমবার (২২ জুন) সকালে সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী ঐ এলাকার মৃত সতীশ চন্দ্র সরকারের ছেলে প্রদীপ কুমার সরকার। তিনি জানান, পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়েছেন। সোমবার সকালে ওই জমিতে আরও কিছু গাছ লাগাতে গেলে একই এলাকার নিতাই চন্দ্র সরকার ও তার স্ত্রী মমতা রাণী সরকার বাধা দেন।
প্রদীপ কুমার সরকারের অভিযোগ, একপর্যায়ে নিতাই চন্দ্র সরকার ও তার সহযোগীরা তার লাগানো বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে ও কেটে নিয়ে যান। পাশাপাশি জমির সীমানা পেছনে সরিয়ে নতুন করে বাঁশের বেড়া নির্মাণ করেন। এতে বাধা দিলে নিতাই চন্দ্র সরকার, মমতা রাণী সরকার, সন্তোষ চন্দ্র সরকার, দিলীপ চন্দ্র সরকার, লিটন চন্দ্র সরকার ও নির্মল চন্দ্র সরকার তাদের ওপর হামলা চালান। হামলায় কয়েকজন আহত হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নিতাই চন্দ্র সরকার বলেন, “গাছগুলো আমার। বরং তারাই আমার গাছ কেটেছে। আমি আমার নিজস্ব জমির সীমানার মধ্যে বেড়া দিয়েছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে সন্তোষ চন্দ্র সরকার তার লোকজন নিয়ে বিরোধপূর্ণ স্থান থেকে সুপারি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যান এবং জমির সীমানা পরিবর্তন করে নতুন করে বেড়া নির্মাণ করেন।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। তারা বিষয়টির দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

