নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর মাধবদীতে এক প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়িতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং নারীসহ ১২ জনকে গুরুতর আহত করার ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।
চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ ‘বোমা সেলিম’ এবং তার বাহিনীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সকালের দিকে আয়োজিত এই মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় শতশত এলাকাবাসী অংশ নেন।
এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সন্ত্রাসী সেলিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয়ভাবে ‘বোমা সেলিম’ নামে পরিচিত এই সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ভূমি দস্যুতা ও অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (২৬ জুন) মাধবদীর ছোট মাধবদী এলাকায় এক প্রবাসীর নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে গিয়ে সেলিম ও তার দলবল পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দেশীয় ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবাসীর বাড়িতে আকস্মিক হামলা চালায় সন্ত্রাসী বাহিনী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা জানান, সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকে আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালংকার এবং একটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীরানমানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন
ঘটনার পর রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় তারা মাধবদী থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন।
কিন্তু থানা চত্বরের বাইরে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ‘বোমা সেলিম’-এর ক্যাডার বাহিনী তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং থানায় প্রবেশ করতে বাধা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় পুলিশের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা না পেয়ে পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে নরসিংদী আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন ভুক্তভোগীরা।
মানববন্ধন শেষে বক্তারা নরসিংদীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “একটি স্বাধীন দেশে একজন কুখ্যাত অপরাধীর ভয়ে পুরো এলাকার মানুষ জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না।”
তারা এই মামলার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে মূল হোতা সেলিমসহ হামলার সাথে জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান। অন্যথায় পরবর্তীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

