নিজস্ব প্রতিবেদক, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ভেজাল কীটনাশক ব্যবহারের অভিযোগে এক কৃষকের আম বাগানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। কীটনাশক প্রয়োগের কয়েকদিনের মধ্যেই ২০ বিঘা জমির আম গাছ ও ফল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষক ইসমাইল হোসেনের প্রায় এক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের ভদ্রেশ্বরী এলাকায়। ভুক্তভোগী কৃষক ইসমাইল হোসেন জানান, তিনি স্থানীয় বাজারের এক ডিলারের কাছ থেকে ‘সাফা এগ্রো প্রোডাক্টস’ কোম্পানির ‘সামজো (এমামেকটিন বেনজোয়েট)’ নামক কীটনাশক কিনেছিলেন। নিজের লিজ নেওয়া ৭৫ বিঘা জমির মধ্যে ২০ বিঘা জমিতে এই কীটনাশক স্প্রে করার দুই-তিন দিনের মধ্যেই বিপর্যয় নেমে আসে।
কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, “স্প্রে করার পরই দেখি আমগুলো কালো হয়ে যাচ্ছে এবং গাছের ডালপালা পুড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। আমার জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে এই বাগান গড়ে তুলেছিলাম। এখন সব শেষ হয়ে গেল। আমি এর সঠিক তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চাই, যাতে অন্য কোনো কৃষককে এমন সর্বস্বান্ত হতে না হয়।”
স্থানীয় আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মামুন এ বিষয়ে বলেন, “এটি শুধু একজন কৃষকের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং পুরো এলাকার আম উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কৃষি উপকরণে ভেজাল ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, “আমরা বাগানের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ এবং ব্যবহৃত কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করেছি। ল্যাব পরীক্ষার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে কীটনাশকটি ভেজাল ছিল কি না। তবে কৃষকদের প্রতি আহ্বান থাকবে, সবসময় অনুমোদিত উৎস থেকে কীটনাশক ক্রয় করবেন এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন।”
বর্তমানে পুরো এলাকায় কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

