আবু জাফর বিশ্ববাস, বরিশাল ব্যুরো:
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে এন্টিভেনম ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন সংকটের কারণে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছিল। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে সক্রিয় হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীদের জন্য এন্টিভেনম এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধী অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের এইচ.এম. সায়েম এবং কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া নতুনচর গ্রামের হানিফ শরীফ সাপে দংশনের পর দ্রুত চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এন্টিভেনম না থাকায় তাদের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হলেও পথেই মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের।
এদিকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের সংকটেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন গ্রহণ না করলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. মনজুর-এ-এলাহী জানান, বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় এন্টিভেনম ও অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, নতুন সরবরাহ পাওয়া ওষুধ ও ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার ফলেই দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়াতে উপজেলা পর্যায়ে স্থায়ীভাবে জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও ভ্যাকসিন মজুদের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

