জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এক নারীকে হত্যাচেষ্টা, শ্লীলতাহানি এবং তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা আরও দুজনকে মারধরের অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জয়পুরহাটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন আক্কেলপুর উপজেলার হাজারাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোছা. মিতালী।
মামলার আসামিরা হলেন আক্কেলপুর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী গ্রামের মাহবুব আলম (৪৫), মোস্তাকিম (৪৭), আব্দুল হামিদ (৫০), জামাল (৫০), আব্দুল খালেক (৪৭) ও আবু তালেব (৬২)।
আদালতে দাখিল করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বাদিনী ও আসামিদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ২৭ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে বাদিনীর বসতবাড়ির পুরোনো প্রাচীরে প্লাস্টারের কাজ চলাকালে আসামিরা সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলেন এবং গালিগালাজ শুরু করেন। এর প্রতিবাদ করলে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালান।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আবু তালেবের নির্দেশে মাহবুব আলম বাঁশের লাঠি দিয়ে বাদিনীর মাথায় আঘাত করেন। পরে মোস্তাকিমও তাকে আঘাত করেন। একপর্যায়ে মাহবুব আলম বাদিনীর চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে ওড়না খুলে ফেলেন এবং মোস্তাকিম তার পরনের পোশাক ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করেন। এ সময় বাদিনীর চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে আরও দুজনকে লাঠিপেটা করে আহত করা হয়। পরে আহতদের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় বাদিনীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থল ত্যাগ করার আগে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্যতম আসামি মাহবুব আলম আক্কেলপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাহবুব আলম মুঠোফোনে বলেন, উভয় পক্ষের বিরোধ মীমাংসা করতে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত আদালতের কোনো আদেশ আমরা পাইনি। আদালতের আদেশ পেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

