বলিউড তারকা আমির খান ও তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাট মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় আমিরের বাসভবনে শুধু পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং কয়েকজন আমন্ত্রিত অতিথি নিয়ে ঘরোয়া আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।। জাঁকজমকের বদলে সরল ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনই ছিল এই বিয়ের মূল আকর্ষণ। বিয়েতে আমির খান পরেছিলেন সাদা-আইভরি রঙের ধুতি ও সাধারণ কুর্তা। পোশাকে ছিল একটি ব্রোচ, তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তার ডান পায়ে পরা মোটা রুপার নূপুর।
সাধারণত পুরুষদের বিয়ের সাজে এমন অলংকার খুব কমই দেখা যায়। ফলে বিয়ের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নূপুর নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
অন্যদিকে গৌরী স্প্র্যাট বেছে নিয়েছিলেন হালকা আইভরি রঙের মিনিমালিস্ট লেহেঙ্গা। সূক্ষ্ম কারুকাজ করা পোশাকের সঙ্গে তিনি পরেছিলেন চোকার, স্তরযুক্ত হার ও মানানসই দুল। বিনুনিতে সাজানো চুলে ছোট সাদা ফুল ব্যবহার করে তিনি সম্পূর্ণ ঐতিহ্যবাহী লুক ধরে রাখেন। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাঁকজমকের পরিবর্তে মার্জিত ও পরিমিত সাজই এই দম্পতির ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলেছে।
বিয়ের পর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আমির খালি পায়ে অতিথিদের বিদায় জানাচ্ছেন। তিনি হাতজোড় করে উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অতিথিদের সঙ্গে ছবি তোলেন। তার এই বিনয়ী আচরণও ভক্তদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জানা গেছে, আমির ও গৌরীর পরিচয় প্রায় ২৫ বছরের হলেও তারা গত দুই বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন। বিশেষ বিবাহ আইনের অধীনে নিবন্ধিত এই বিয়েটি ছিল একান্ত ব্যক্তিগত। অনুষ্ঠানে আমিরের সন্তান জুনায়েদ, ইরা ও আজাদ ছাড়াও গৌরীর আগের সংসারের সন্তান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চলচ্চিত্র, ব্যবসা ও রাজনীতির কয়েকজন পরিচিত মুখও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
বিয়ের পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে আমিরের ব্যতিক্রমী নূপুর। কেউ এটিকে ব্যক্তিগত রুচির প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে ঐতিহ্যবাহী অলংকারের নতুন উপস্থাপন বলে মন্তব্য করছেন। যদিও আমির বা তার পক্ষ থেকে নূপুর পরার বিশেষ কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

