সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরে শীতকালীন সবজির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে বিভিন্ন সবজির দাম নিম্নমুখী ধারায় নেমে এসেছে। পাইকারি ও খুচরা—দুই বাজারেই সরবরাহ বেশি থাকায় ক্রেতারা স্বস্তি নিয়ে বাজার করতে পারছেন। অন্যদিকে বিক্রেতারাও বলছেন, দাম কম হলেও বাজারে ভিড় বাড়ায় বিক্রি মোটামুটি ভালোই হচ্ছে।
আজ বুধবার দুপুরে শহরের বাহাদুর বাজার, চক বাজার ও রেল বাজার এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে—বাজারজুড়ে রঙিন শীতের সবজির সমারোহ। ফুলকপি, বাঁধাকপি, নতুন আলু,গাজর, মুলা, বেগুন, সিম, টমেটো, পটল,ঢেঁড়স, বরবটি, পেঁপে, পাতাসহ পেঁয়াজ, লাউসহ মৌসুমি সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত।
বাজারে আজকের সবজির দাম ফুলকপি: ৩০–৩৫ টাকা,বাঁধাকপি: ৩০–৩৫ টাকা,গাজর: ৫০–৬০ টাকা,সিম: ৫০–৬০ টাকা, বেগুন: ৫০–৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ: ৭০–৮০ টাকা,টমেটো: ৬০–৭০ টাকা,শসা: ৩০–৪০ টাকা,পাতাসহ পেঁয়াজ: ৩০–৪০ টাকা, পটল: ৪০–৪২ টাকা, নতুন আলু: ৫০–৬০ টাকা পুরোনো আলু: ১৫–১৬ টাকা।
সবজি বিক্রেতা আবু সাঈদ বলেন,এবার বাজারে সরবরাহ খুবই বেশি। প্রতিদিনই নতুন সবজি আসে। চাহিদা বেশি না থাকায় দাম একটু করে কমছে। এতে ক্রেতারা ভালো দামে সবজি পাচ্ছেন—আমরাও খুশি।
সবজি বিক্রেতা রাব্বিকুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহেও ফুলকপি-বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন তা ৩০–৩৫ টাকায় নেমেছে। সরবরাহ বেশি থাকলে দাম তো কমবেই। তবে বিক্রি আগের তুলনায় বেশ ভালো যাচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, শীত পড়তে শুরু করলেই সবজির প্রাচুর্য দেখা দেয়। এখন বাজারে সবকিছুই আছে। দাম কম থাকায় মানুষ আগের চেয়ে বেশি কিনছে। এতে আমাদেরও লাভ হচ্ছে।
সবজি ক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, এই সময়টায় সবজির দাম কম থাকে, কিন্তু এবারের মতো এত কম দাম আগে কম দেখেছি। বাজার করতে এসে স্বস্তি পাচ্ছি।
সবজি ক্রেতা মোরসালিন হক জানান, বাজারে সব ধরনের সবজি সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ফুলকপি আর বাঁধাকপি খুবই কম দাম। পরিবারের জন্য বেশি করে কিনে রাখছি।
সবজি ক্রেতা হাসিনা বেগম বলেন, মাসখানেক আগে প্রতিদিন বাজার করতেই দুশ্চিন্তা ছিল। এখন দাম কমে গিয়ে ভালোই লাগছে। শীতের সবজির দাম আরও কমলে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য আরও সুবিধা হবে।
দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রঞ্জু বলেন, দিনাজপুরে শীতের সবজির সরবরাহ আরও কিছুদিন বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিক্রেতারা। সরবরাহ যত স্থিতিশীল থাকবে, ততই দাম ক্রেতা–সাশ্রয়ী থাকবে বলে তাদের ধারণা। অন্যদিকে ক্রেতারাও আশা করছেন, চলতি শীত মৌসুমে বাজার এমনই স্বস্তিদায়ক থাকুক।

