মোঃ ইকরাম হাসান,
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর গত মার্চে রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে ‘প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ হিসেবে নামকরণ করা হয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম ব্যাচের ভর্তি প্রক্রিয়াও শুরু হয়। কিন্তু দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ভর্তি শেষ করে ক্লাস শুরু করেছে, সেখানে সাত কলেজ নিয়ে গঠিত এই প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় এখনো পূর্ণাঙ্গ ভর্তি কার্যক্রমই সম্পন্ন করতে পারেনি।
এর মধ্যে আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ভর্তি শুরুর আগেই কার্যত এক বছরের সেশনজটে পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নতুন সেশনের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে ফেলেছে। অথচ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৪–২৫ শিক্ষার্থীরা প্রায় এক বছরের সেশনজটে আটকে থেকে গভীর হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের ভর্তি কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি—এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক। যখন বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু করছে, তখন তারা আগের বছরের ভর্তি প্রক্রিয়াই শেষ করতে পারছেন না। শিক্ষার্থীদের দাবি, এতে তারা কমপক্ষে এক বছর পিছিয়ে গেছেন।
তিতুমীর কলেজে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হওয়া ২০২৪–২৫ সেশনের শিক্ষার্থী এটিএম রিজওয়ান হোসেন জানান, “আমি সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে চান্স পেলেও ভর্তি হওয়ার আগেই সেশনজটে পড়েছি। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা ইতোমধ্যে প্রথম সেমিস্টার শেষ করেছে, আর আমাদের ভর্তি প্রক্রিয়াই এখনো শেষ হয়নি।”
অপরদিকে নতুন শিক্ষার্থী রায়হান হোসেন বলেন, “অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না থাকায় এখানে ভর্তি হওয়ার অপেক্ষায় আছি। দ্রুত কার্যকর আইন, সিলেবাস ও একাডেমিক কাঠামো না হলে আমাদের পড়াশোনায় বড় ক্ষতি হবে।”
যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—ক্লাস শুরুতে বিলম্ব হলেও অতিরিক্ত ক্লাস ও ঘনিষ্ঠ একাডেমিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
তবে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, প্রশাসনিক অদক্ষতা ও স্পষ্ট সিদ্ধান্তহীনতার কারণে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ওপরই সেশনজটের বোঝা চাপছে। তারা দ্রুত আইন, কাঠামো ও ভর্তি–শিক্ষাবর্ষ চালুর সুস্পষ্ট রোডম্যাপ চান।

