সারাদেশে বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। প্রাণঘাতী এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি জুন মাসেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন ১৩ জন। আর সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে।
আজ সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে যে ৫ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, তাদের ভৌগোলিক বিবরণ নিচে দেওয়া হলো: চট্টগ্রাম বিভাগ: ২ জন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি): ১ জন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি): ১ জন। ময়মনসিংহ বিভাগ: ১ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৫ হাজার ৯২৪ জনে।
তবে আশার কথা হচ্ছে, আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ জনসহ এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৫৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে অনেক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জুন মাসে এসে তা যেন লাগামহীন হয়ে পড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত ৫ মাসে ডেঙ্গুতে মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল (জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন এবং মে মাসে ১ জন)। অথচ কেবল এই জুন মাসের ২৯ দিনেই মারা গেছেন ১৩ জন, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে নারী ও শিশুদের তুলনায় পুরুষরাই বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন:
মৃত্যু (মোট ১৮ জন): পুরুষ ১০ জন এবং নারী ৮ জন।
আক্রান্ত (মোট ৫,৯২৪ জন): পুরুষ ৩ হাজার ৬৭৯ জন এবং নারী ২ হাজার ২৪৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে এবং ঘরের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি হালকা জ্বর হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গু টেস্ট করার জন্য দেশবাসীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।

