দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মোহাম্মদ আলী আকবর আজিজি বলেছেন একটি পরিবারের কর্তা কতটা সুশৃঙ্খল, ধর্মপ্রাণ ও দায়িত্বশীলভাবে জীবনযাপন করবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করে তার প্রিয় সহধর্মিনীর ওপর। যদি সহধর্মিনী সহিষ্ণু হন, তাহলে সীমিত আয়ের মধ্যেও সংসার, ধর্ম ও সামাজিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব। কিন্তু স্ত্রী যদি অসহিষ্ণু হন, তাহলে সংসারের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
আজ রোববার (১০ নভেম্বর) সকালে দিনাজপুর শিশু একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আয়োজিত গণশুনানি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সব কথা বলেন।
তিনি নিজের জীবনের এক বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কমিশনার আজিজি বলেন—সহকারী জজ হিসেবে কর্মজীবনের শুরুতে আমার মাসিক বেতন ছিল মাত্র ২ হাজার ৬৭০ টাকা। আমার প্রথম সন্তান মায়ের দুধ পান করতে পারত না, তাই শিশুর দুধের পেছনে খরচ হতো প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা। বাকি ১ হাজার ৩৭০ টাকায় পুরো সংসার চালাতাম—টানা দশ মাস। সেই কঠিন সময়েও আমার স্ত্রী কখনো অভিযোগ করেননি। তার সহিষ্ণুতা ও ধৈর্যের কারণেই আজ আমি এই অবস্থানে পৌঁছেছি।
আবেগভরে তিনি আরও বলেন— আমি আমার জন্মদাতা পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ, কারণ তাদের দোয়ার বরকতে এমন এক সহনশীল ও ধর্মপরায়ণ জীবনসঙ্গিনী পেয়েছি। আমি তাকে বিয়ের দিনই প্রথম দেখেছিলাম—এর আগে কখনো দেখা বা পরিচয় হয়নি। সহিষ্ণু সহধর্মিনী পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। এমন জীবনসঙ্গিনী থাকলে সংসার যেমন শান্তিতে থাকে, তেমনি দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে একটি ঈমানদার জীবন গড়ে তোলা সম্ভব।
গণশুনানিতে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে সকলে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধান অতিথি।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে
গণশুনানিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন, রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাপরিচালক মো. নুরুল হুদা এবং দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মারুফত হোসেন।
গণশুনানিতে বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস, সাব রেজিস্ট্রি অফিস, বিআরডিসি, দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড, গণপূর্ত অফিস, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, এলজিইডি, জেলা কারাগার, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা কারাগার ও সিভিল সার্জন অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। উপস্থিত কর্মকর্তারা কয়েকটি অভিযোগের তাৎক্ষণিক সমাধান দেন, অন্যগুলো তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়।

