জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করে হত্যা ও দুজনকে হত্যার মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ তাদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আগামী ১৬ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হলো।
হাবিব ছাড়া বাকি তিন আসামি হলেন খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। মামলার সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গত বছরের ১৯ জুলাই বিকেলে রামপুরায় হোটেলে কাজ শেষে ঢাকায় থাকা ফুফুর বাসায় ফিরছিলেন আমির হোসেন। বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের দুই পাশে পুলিশ-বিজিবির গাড়ি দেখে তিনি পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের ছাদে ওঠেন। ওই সময় পুলিশও তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে তিনি ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকেন। পরে পুলিশ ছয়টি গুলি চালায়। ফলে তিন তলায় পড়ে গেলে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করেন। এরপর বনশ্রীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর বাড়ি ফেরেন ভুক্তভোগী। একই দিন রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন। ছয় বছরের শিশু বাসিত খান মুসা গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিয়েছেন, এখনও স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না।
পলাতক চার আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ এবং ট্রাইব্যুনালে হাজিরের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের পক্ষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

