সত্যজিৎ দাস, (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হাইল হাওরের একটি ধানক্ষেত থেকে একটি অজগর সাপ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। স্থানীয় এক সচেতন ব্যক্তির উদ্যোগে সাপটি হত্যার হাত থেকে রক্ষা পায়।
রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে ধান রোপণের জন্য জমি পরিষ্কার করার সময় শ্রমিকরা একটি অজগর সাপ দেখতে পান। সাপটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে প্রথমে সেটিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন তারা। তবে স্থানীয় বাসিন্দা মুহিবুর রহমান সবাইকে সাপটি না মারার অনুরোধ জানান এবং উদ্ধারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।
পরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের নম্বর সংগ্রহ করে বিষয়টি জানানো হলে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজগরটি নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মুহিবুর রহমানের সচেতনতার প্রশংসা করা হয়। তাদের মতে,তার সময়োপযোগী উদ্যোগের কারণেই একটি বন্যপ্রাণীর জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন,শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি বন ও চা-বাগান এলাকায় প্রধানত ভারতীয় শিলা অজগর এবং মাঝে মধ্যে জালি অজগর দেখা যায়। এ দুটি প্রজাতিই নির্বিষ এবং সাধারণত শান্ত স্বভাবের। তারা বেশিরভাগ সময় ঝোপঝাড়,বনাঞ্চল ও জলাশয়ের আশপাশে অবস্থান করে। প্রাপ্তবয়স্ক অজগরের দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১৮ ফুট বা তারও বেশি এবং ওজন ১৫ থেকে ৩৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন,অজগর বিষধর নয়। শিকারকে শরীর দিয়ে পেঁচিয়ে চেপে ধরে হত্যা করে এবং ইঁদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত মানুষকে এড়িয়ে চললেও খাদ্য সংকট,বন উজাড়,আবাসস্থল ধ্বংস,চা-বাগানসংলগ্ন বনাঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার কারণে তারা লোকালয়ে চলে আসে।
তিনি আরও বলেন,অজগর দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়া উচিত। এতে মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

