প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও বিএনপির বর্তমান ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত এবং এমন নেতৃত্ব দিয়ে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এনসিপির আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
পাটওয়ারী বলেন, তিনি সাধারণ পরিবারের সন্তান এবং বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার দাবি, চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা ও নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পরিবর্তনের দাবিতে রাজপথে নেমেছিল।
তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তনের জন্য জনগণের সচেতনতা জরুরি। সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, জনগণের ওপর কর্তৃত্ব দেখানোর সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থানীয় সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করলেও এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান ও উন্নয়নে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখছে না। স্থানীয় তরুণদের কম বেতনে শ্রম দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, কর্মসংস্থান, সীমান্ত নিরাপত্তা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সারজিস আলম আরও বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সেগুলোর সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে কোনো সরকার যদি জনগণের প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে কর্তৃত্ববাদী আচরণ করে, তাহলে জনগণ তার বিরুদ্ধেও অবস্থান নেবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রশাসনের সদস্যদের জনগণের সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। অন্যায় সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান না নিয়ে জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে এনসিপির অন্যান্য নেতারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যেই তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি চলবে।
পরে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হবিগঞ্জ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

