পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, জুলাই গণআন্দোলন হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি; এর পেছনে বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ভূমিকা রয়েছে। তার ভাষ্য, আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল বিএনপির ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে ‘ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বিভাজন নয়, ঐক্য’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘আমরা বাংলাদেশি’ নামের একটি সংগঠন।
বক্তব্যে এ্যানি বলেন, বর্তমানে যারা নিজেদের আন্দোলনের একমাত্র দাবিদার হিসেবে তুলে ধরছেন, তাদের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করেছে এবং সেই ধারাবাহিক লড়াইয়ের ফলেই গণঅভ্যুত্থানের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে তাদের দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল না। সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল নিয়েও মন্তব্য করে এ্যানি বলেন, কিছু আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট বিভক্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী ভোট নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ নেই। তবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ‘ভালো আওয়ামী লীগ’কে সঙ্গে নেওয়ার বক্তব্য রাজনৈতিক বিভাজনের জন্ম দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের কার্যক্রম নিয়ে এ্যানি বলেন, নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র কয়েক মাস হয়েছে। এত অল্প সময়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলেও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়েছেন। সবার সহযোগিতা পেলে দেশের পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত বছরের দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রভাব এখনো দেশ বহন করছে। একই সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সীমিত ভূমির মতো চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এসব সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ্যানি তার বক্তব্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে বিভেদ নয়, জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, যারা একসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা এখন সংসদে বিরোধী দলের আসনে রয়েছে, যা দুঃখজনক। তিনি আরও দাবি করেন, বিরোধী জোটের অভ্যন্তরে ভাঙন শুরু হয়েছে এবং জনগণ তাদের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে সচেতন।
রাশেদ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব, ব্যয়সংকোচন ও প্রশাসনিক কর্মকৌশল সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক পক্ষ এনসিপিকে ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা করেছিল এবং নির্বাচন বিলম্বিত করারও চেষ্টা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘আমরা বাংলাদেশি’-এর সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা। তিনি বলেন, বিভাজনের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সংগঠনটির লক্ষ্য।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, বিএনপি নেতা মোমিনুল আমিন, ইউনাইটেড লেবার পার্টির আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

