দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম ঘুরে বেড়ালেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্বের কারণে তিনি রাষ্ট্রপতি পদের জন্য অন্যতম শক্তিশালী সম্ভাব্য ব্যক্তি।
বিএনপির বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই নেওয়া হবে। যদিও এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল নিজে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে বিএনপি এমন একজন ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চাইবে, যিনি জাতীয় সংকটের সময়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে সক্ষম এবং দলীয় সীমার বাইরে সাধারণ মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্য। এ দৃষ্টিকোণ থেকে মির্জা ফখরুলের নাম আলোচনায় এসেছে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের কঠিন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সমন্বয় এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। শান্ত, সংযত ও মার্জিত রাজনৈতিক আচরণের কারণে প্রতিপক্ষের কাছেও তিনি তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য একজন নেতা হিসেবে পরিচিত।
বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশের মতে, দল যখন দীর্ঘদিন বিরোধী অবস্থানে ছিল, তখন সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখতে এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মির্জা ফখরুলের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অসংখ্য মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। এ কারণেই অনেকেই তাকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য উপযুক্ত বলে মনে করছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদটি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাই এ পদে এমন একজন ব্যক্তির প্রয়োজন, যিনি সংবিধান, প্রশাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং সংকটময় সময়ে ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাকে এ আলোচনায় এগিয়ে রেখেছে বলে মত অনেকের।
ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং কৃষি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ না ওঠাও তার ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সে কারণে সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। এরপর ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।
এখন পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার নাম চূড়ান্ত হচ্ছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

