চলতি সপ্তাহেও দেশের গ্যাস সংকটের উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই। এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকায় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, আবাসিক গ্রাহক এবং সিএনজি স্টেশন—সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তি বেড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিংও বেড়েছে, আর অনেক এলাকায় রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসও মিলছে না।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হতে আরও প্রায় দুই সপ্তাহ লাগতে পারে। তবে আগামী সপ্তাহে অক্ষত একটি বয়লার চালু করা গেলে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গাজীপুর, নরসিংদীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অনেক কারখানা আংশিক উৎপাদনে চলছে, কোথাও কোথাও শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। শিল্প মালিকরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধেও সংকট তৈরি হতে পারে।
গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ খাতেও। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ১ হাজার থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট কমে গেছে, ফলে বাড়ছে লোডশেডিং। একই সঙ্গে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং আবাসিক এলাকায় তীব্র নিম্নচাপের কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টার্মিনাল মেরামতের কাজ চলছে এবং দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতেও এমন সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

