বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দাবি, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ২৬১ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ তথ্য জানায়।
তাদের তথ্যানুযায়ী, এ সময়ে ৪০টি ঘটনায় ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া উপাসনালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ৬২টি, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-লুটপাটের ৪৭টি এবং নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ৫টি ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনটি জানায়, এসব তথ্য সংবাদমাধ্যম ও নিজস্ব সূত্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে জরুরি পদক্ষেপের পাশাপাশি আট দফা দাবি জানায় ঐক্য পরিষদ।
জরুরি পদক্ষেপ বিষয়ে বলা হয়, উসকানিমূলক ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, গুজব ছড়ানোকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ‘ক্ষতিকর কাজ’ গণ্য করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে। জড়িত ব্যক্তিদের নির্বাচনে প্রার্থিতা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করতে তবে। সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের ‘অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করতে হবে।
৮ দফা দাবির মধ্যে আছে—‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করা। জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন করা। অর্পিত সম্পত্তি আইনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে রায় অনুযায়ী প্রকৃত মালিকদের জমি দ্রুত ফেরত দেওয়া। সংসদে সংখ্যালঘুদের জন্য ৬০টি আসন সংরক্ষণ করা (সংখ্যালঘুদের সরাসরি ভোটে)। বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন করা। পার্বত্য চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন। দুর্গাপূজায় ৩ দিন, প্রবারণা পূর্ণিমায় ১ দিন ও ইস্টার সানডেতে ১ দিন সরকারি ছুটি দেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রঞ্জন কর্মকার বলেন, একটি অস্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশ তাঁদের চাওয়া। সাম্প্রদায়িক কোনো শক্তির কারণে ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত পাক, সেটা তাঁরা চান না।
সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সরকার করবে, সেই আশা প্রকাশ করেন ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই। প্রতিনিয়ত আন্দোলন করতে আমাদের ভালো লাগে না। কিন্তু সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে বড় কর্মসূচি ঘোষণা করতে আমরা বাধ্য হব। আমরা দেখতে চাই, সরকার সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে। সরকারের ওপর সেই আস্থা আমাদের আছে।’
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনায় ছিলেন ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক দীপঙ্কর ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, সুনন্দ প্রিয় ভিক্ষু প্রমুখ।

