নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতিভাধর গিটারিস্ট সাদ্দাম রনি আর নেই। তিনি শনিবার দিবাগত রাতে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৪ বছর।
রনি দেশের আলোচিত হার্ডরক জায়ান্ট কে এইচ এন এর সাথে কনসার্টে পারফর্ম করে আলোচনায় ছিলেন। লিড গিটারিস্ট হিসাবে তাঁর অসাধারণ গিটার শৈলী শ্রোতাদের মন জয় করে নিতো। কে এইচ এন ও তাঁর রক উইং এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসাবে রনি সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
এদিকে আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিল্পী কে এইচ এন তাঁর মিউজিক্যাল ফ্রেন্ড ও সহকর্মী সাদ্দাম রনির মৃত্যুতে যা লিখেছেন তা হুবুহু তুলে ধরা হলঃ
আমি যে কথাটা রনিকে বলতে পারিনি !!
সাদ্দাম রনি চলে গেছেন। তিনি গ্রহান্তরীত হয়েছেন। দুর্দান্ত পর্যায়ের এক গিটারিস্টের বিদায় !
আমার গাওয়া শ্রেয়া, কবিতা, মন, ছবি, ডালিয়া ও ইংলিশ গান ক্রিস্টিয়ানা গানগুলোর মিউজিক করেছিলেন। কনসার্টে পারফর্ম যে করি, তা রনি ছাড়া সমৃদ্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। তাঁর বিদায়ে আত্মকেন্দ্রিক হয়েই বলছি, কার কি ক্ষতি হয়েছে জানি না, তবে আমার অপুরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে।
গীটারবাদক হিসাবে তাঁর লিড করাকে সম্মান করতাম। রাত্রি করে তাকে শুধু বলতাম যে, দেশসেরা অন্তত আপনাকে হতে হবে। অনুশীলন ছাড়া গত্যন্তর নেই, তাগিদ দিতাম। ও যখন শো তে পারফর্ম করত, আমার সাথে এমন এক কেমেস্ট্রি তৈরি হয়ে গিয়েছিল, যা একদিনে অর্জিত হয় না। সব সময় চেয়েছি যে, গিটার সলো কে সে এমন জায়গায় নিয়ে যাক, ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাক। তেমন কাজের শুরুটাও হচ্ছিল।
রক জায়ান্ট, হার্ডরক জায়ান্ট—- যাই- ই আমাকে বলা হোক, রনি ছাড়া সেই পথ মসৃণ ছিল না। কারণ, আমরা লাইভ পারফর্ম করে নিজেদেরকে চেনাতে অভ্যস্ত। আমি যে কথাটা রনিকে বলতে পারিনি তা হল, “তাঁকে রেখেই বৈশ্বিক পর্যায়ে আরেকজন বিশ্বখ্যাত গিটারিস্ট কে সংযুক্ত করে ইউরোপ- আমেরিকার বিদেশি শ্রোতাদের সামনে হাজির হতে চেয়েছিলাম।”
রনির অকাল মৃত্যু; দেশ একজন অসাধারণ গোত্রের গিটারবাদক ও শিল্পিকে হারাল। আমাকে সে ভেতরে ভেতরে ভালবাসত। ওর জন্য একটা গান আমি এখন লিখব ও গাইবো। রনিকে আমার দ্বীপে চেয়েছিলাম ! এখনো চাইবো।
– কে এইচ এন
রনি এক পুত্র সন্তানের জনক। গেল বছর তাঁর একমাত্র ছেলেটি এস এস সি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ পায়। রনির আদিবাস বরিশাল জেলায় হলেও তিনি ও তাঁর পরিবার চাঁদপুরে বাস করতেন। রনির বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকুরিজীবী ছিলেন। অতি সম্প্রতি তিনিও মারা যান। রনির মৃত্যুতে ঢাকা ও চাঁদপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

