এমএ আউয়াল আশিক:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পে শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও ভেকু (খননযন্ত্র) ব্যবহার করে মাত্র অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করে পুরো প্রকল্পের বরাদ্দ উত্তোলন করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) আওতায় রশুনিয়া খালের দানিয়াপাড়া ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে মোতার জাহান বাড়ির দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত ১ দশমিক ২ কিলোমিটার (১,২০০ মিটার) খাল পুনঃখননের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে বাস্তবে মাত্র প্রায় ৬০০ মিটার খনন কাজ সম্পন্ন করেই প্রকল্প শেষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২৫ এপ্রিল কাজ শুরু হলেও ৩০ এপ্রিলই ৩৬৩১১০৭ ক্রমিক নম্বর ও ০০০২৩৭৯৭ নম্বর টোকেনের মাধ্যমে প্রকল্পের সম্পূর্ণ বরাদ্দ ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ২৫ টাকা উত্তোলন করা হয়। অথচ নিয়ম অনুযায়ী কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে অর্থ উত্তোলনের কথা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান ও রশুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইকবাল দিদার নিজস্ব ভেকু দিয়ে খনন কাজ পরিচালনা করেন। ৬০০ মিটার খননকাজে ভেকুর ভাড়া বাবদ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া খনন করা মাটি খালের দুই পাড়ে ফেলে রাখায় বর্ষা শেষে সেই মাটি আবার খালে পড়ে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, ১ দশমিক ২ কিলোমিটার খাল খননে ৪ লাখ ২১ হাজার ৭২১ ঘনফুট মাটি কাটার প্রাক্কলন করা হয়। এতে শ্রমিকের মজুরি বাবদ ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, নন-ওয়েজ খাতে ২৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭৪৫ টাকা এবং সর্দার ভাতা বাবদ ৪ হাজার ২৮০ টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রতিদিন ৫০০ টাকা মজুরিতে ১০৭ জন উপকারভোগী শ্রমিকের মাধ্যমে ৪০ দিনের কর্মসূচি হিসেবে ২৫ এপ্রিল থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ছিল।
এ বিষয়ে প্রকল্প চেয়ারম্যান ইকবাল দিদার বলেন, “আমরা ৬০০ মিটার কাজ করতে পেরেছি। সব কাজ শেষ করতে পারিনি। প্রায় ১৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অতিরিক্ত পানি সেচ দিতে হয়েছে, ব্যাটারি চুরি হয়েছে, তেলের দামও বেশি ছিল। ভেকু দিয়ে কাজ করেছি, তাতেও লাভ হয়নি।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোছা. সাজেদা সরকার বলেন, “প্রকল্পে ১৭ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট ২৮ লাখ ৯১ হাজার ৫২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হবে। অনলাইনে চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে হয়। অনলাইন জটিলতার কারণে এখনো জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আজ বা আগামীকালের মধ্যেই সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেওয়া হবে।”

