সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় সুদের টাকার চাপ ও মারধরের অভিযোগের মধ্যে কীটনাশক পান করার পর ফারুক আহমদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ,দীর্ঘদিন ধরে সুদের টাকার চাপ ও হয়রানির কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ফারুক।
নিহত ফারুক আহমদ উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মৌলভীরচক গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিন ভাইয়ের মধ্যে বড়। তার দুই ছোট ভাইয়ের একজন দুবাই এবং অন্যজন পর্তুগালে কর্মরত।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি এবং পারিবারিক বিভিন্ন প্রয়োজনে ফারুক আর্থিক সংকটে পড়েন। প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় এক নারীর কাছ থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর,চেক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে এক লাখ টাকা সুদে ধার নেন। নিয়মিত সুদের টাকা পরিশোধ করলেও কিছু অর্থ বকেয়া পড়ে যায়। এ নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। গত কয়েক দিনে সুদের টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও তীব্র হয়। এ সময় তাকে মারধর করা হয়েছে বলেও পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।
নিহতের মা আজিজুন নেছা জানান,দুই দিন আগে তিনি ছেলের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। বিষয়টি জানতে চাইলে ফারুক জানান,সুদের টাকা নিয়ে চাপ দেওয়া ওই নারী তাকে মারধর করেছেন।
তিনি আরও বলেন,গত বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সুদের টাকার জন্য ওই নারী আবারও ফারুককে ফোন দেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন,) “তুই আর তর দুয়াতির আমারে দেখতে নায়।” এরপর তিনি হাতে থাকা মোবাইল ফোন আছড়ে ভেঙে ফেলেন। কিছুক্ষণ পর ঘর থেকে গোঙানির শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে দেখেন,তিনি কীটনাশক পান করেছেন।
পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে তিনি মারা যান।
ফারুক আহমদের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। শুক্রবার বিকেলে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় রাজনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দীন ভূইয়া বলেন,”ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। সুদের টাকার বিষয়টি আমরা জেনেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথাও বলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

