মো আলম, বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের থানছি উপজেলার সাঙ্গু নদীর বড় পাথর এলাকায় পর্যটকবাহী একটি নৌকা উল্টে এক পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত যাত্রী ও লাইফ জ্যাকেট না পরার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ পর্যটকের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিকভাবে থানছির নদীপথে একটি নৌকায় সর্বোচ্চ ৫ জন পর্যটক নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু দুর্ঘটনার শিকার নৌকাটিতে ৫ জন পর্যটক ছিলেন। খরচ বাঁচানোর জন্য অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয়।
দুর্ঘটনার আগে গাইড সবাইকে লাইফ জ্যাকেট পরতে বললেও কেউ তা পরেননি। এ কারণেই নৌকা উল্টে যাওয়ার পর স্রোতে একজন ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হন।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, থানছি ফায়ার সার্ভিস ও গাইড সমিতির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধান মেলেনি।
এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে থানছির তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়ার ঘটনা ঘটেছে।
আবহাওয়া ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটন স্পটে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।
গত ৬ জুলাইও থানছির বড় পাথর এলাকায় স্রোতের কারণে একটি পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে যায়। তবে সেবার পাঁচ পর্যটক ও চালক আগেই নেমে যাওয়ায় কোনো হতাহত হয়নি। তিন্দু ইউনিয়নের প্রধান শিক্ষকও জানিয়েছেন, বড় পাথর এলাকায় তীব্র স্রোতে একটি পর্যটকবাহী বোট ডুবেছে।
থানছি টুরিস্ট গাইড সমিতির একাধিক সদস্য জানান, নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা ও লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার না করার প্রবণতাই বারবার দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের উদ্দেশে আবারও অনুরোধ জানানো হয়েছে — আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নদীপথে ভ্রমণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলতে।

