ভারতে নিট (NEET-UG) পরীক্ষার ভয়াবহ প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি ও শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে রাজধানী দিল্লির রাজপথে শিক্ষার্থীদের তুমুল বিক্ষোভের মুখে অবশেষে সরাসরি মুখ খুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তরুণ শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত বিচারে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাস সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বরখাস্ত ও পদত্যাগের দাবিতে নিজেদের অবস্থানে কঠোর অনড় রয়েছে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)।
সুদীর্ঘ নীরবতা ও দিল্লিতে বিরোধী নেতাদের আটকের পর আজ সকালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন:
“আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই হতে পারে না! যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
সংকট নিরসনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতেই সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রীর ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণাকে আন্দোলনের প্রাথমিক সাফল্য হিসেবে দেখলেও পদত্যাগের দাবি থেকে সরে আসেনি আন্দোলনকারীরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-কে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ আশ্বাস বা আদালত গঠনই যথেষ্ট নয়।
সংগঠনটির এক প্রতিনিধি বলেন: “কোটি কোটি শিক্ষার্থীর মানসিক নির্যাতন ও ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার দায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এড়াতে পারেন না। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে, তবেই আন্দোলন থামবে।”
একই সঙ্গে তাঁরা স্পষ্ট করেন, আলোচনা যদি হতেই হয় তবে তা কোনো মন্ত্রীর বাসভবনে নয়—যন্তর মন্তর বা কোনো নিরপেক্ষ স্থানে প্রকাশ্যে হতে হবে।
গত কয়েকদিন ধরে দিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান, বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদবকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার পর ভারতের রাজনীতিতে সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাই, পুনে ও বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলগুলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে রাজপথে সিজেপি-র তরুণ জেন-জি আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থান এবং অন্যদিকে বিরোধী জোটের সমন্বিত চাপের মুখে মোদি সরকারের ওপর চাপ এখন তুঙ্গে।

