সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর আলিয়াছড়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় অব্যবহৃত ১ কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার ৩০১ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ২ হাজার ৭৫০ মিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৬৪০ মিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ কাজে ভ্যাট,আয়করসহ ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ টাকা।
অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নেওয়া এ প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে ছিল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিস। খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দুই পাড় সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য আরসিসি রিং পাইপ স্থাপনের পরিকল্পনাও ছিল প্রকল্পে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,ভুনবীর ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে আলিয়াছড়া খাল পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ১৭ এপ্রিল প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয় এবং ১৮ এপ্রিল থেকে খননকাজ শুরু হয়। ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২৩ দশমিক ২৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়। পিআইও অফিসের দাবি,অতিবৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল বলেন,বৃষ্টির কারণে কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে। সম্পন্ন হওয়া অংশে শ্রমিকদের মজুরি, এক্সকাভেটর ব্যবহার,পরিবহন ও অন্যান্য খাতে ভ্যাট-আয়করসহ ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রকল্প গ্রহণের সময় বাস্তব পরিস্থিতি ও মৌসুম বিবেচনায় পর্যাপ্ত পরিকল্পনা করা হয়নি। দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ একটি খালের পুনঃখনন প্রকল্প বর্ষা মৌসুমের আগেই কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী যোশেফ দাশগুপ্ত যশো বলেন,“আলিয়াছড়া খাল এলাকার কৃষি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় চার হাজার একর কৃষিজমির জলাবদ্ধতা নিরসনের স্বপ্ন নিয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে পুরো সুফল জনগণ পাচ্ছে না। সরকারি অর্থ ফেরত দেওয়া স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত হলেও জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজটি সম্পন্ন করাই ছিল মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল।”
তিনি আরও বলেন,“প্রকল্প গ্রহণের আগে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা,আবহাওয়া এবং কাজের উপযোগী সময় বিবেচনা করা জরুরি। ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় প্রকল্পে সময়মতো পরিকল্পনা, কঠোর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”
স্থানীয় কৃষকরা জানান,দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে খালটি ভরাট হয়ে থাকায় পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে পড়তে হয় কৃষকদের। ভুনবীর ইউনিয়নের লইয়ারকুল,আলিসারকুল, বাদে আলিশা,শাসন রাজপাড়া ও পাত্রীকুল মৌজার কৃষিজমি এ সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন,প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান,ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প শুষ্ক মৌসুমে গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী করা হবে,যাতে জনগণ প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পেতে পারেন।

