মুহাম্মদ মহসিন আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে হঠাৎ করেই সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। প্রয়োজনীয় পরিমাণ সবজি কিনতে না পেরে অনেকেই কমিয়ে দিচ্ছেন দৈনন্দিন বাজারের তালিকা।
রবিবার (১৯ জুলাই) শহরের কাউতলী কাঁচাবাজার, আনন্দবাজার, ফারুকী বাজার, বর্ডার বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমান বাজারদরে টমেটো বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, সিম ৩০০ টাকা, করলা ও দেশি তিতা করলা ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২৪০ টাকা, শসা ১৬০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১০০ টাকায়। এছাড়া চাল কুমড়া প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, লাউ ১০০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, লতা ৬০ টাকা, আলু ও পেঁপে ৩০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি পিস ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শুধু সবজির বাজারেই নয়, মাছের বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে আড়াইশ টাকার নিচে তেমন কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে সাদা ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। সবজি বিক্রেতাদের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে মাঠ থেকে পর্যাপ্ত সবজি বাজারে আসছে না। ফলে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
সবজি ব্যবসায়ী সজিব বলেন, “আমরা প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা লাভে সবজি বিক্রি করি। অনেক সময় পণ্য পচেও যায়। তারপরও ক্রেতাদের কথা বিবেচনা করে যতটা সম্ভব কম লাভে বিক্রি করার চেষ্টা করছি।”
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সামসু মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, “সবজির দাম এত বেশি যে প্রয়োজনমতো কিনতে পারছি না। বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা দরকার। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিলে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবে।”
জামাল উদ্দিন নামের এক ক্রেতা বলেন, “পুরো সবজি বাজার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। যে কারণে বাজারের সবাই একই দামে বিক্রি করছে। পাইকারি সিন্ডিকেট যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে এর বাইরে কেউ বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিতে হবে”।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, “আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই জেলার বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। কেউ অযৌক্তিকভাবে মূল্য বৃদ্ধি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় আপাতত বাজারে দামের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হলে বাজার পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সাধারণ মানুষ।

