শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর সৈয়দপুর সেনানিবাসের ফেয়ার পার্কে আয়োজিত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলায় র্যাফেল ড্র, জুয়া ও অশ্লীল কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সচেতন জনতা সৈয়দপুর’ এর ব্যানারে রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে শহরের রংপুর রোড জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পাঁচমাথা মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এসময় তারা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এসব অনৈতিক কাজ বন্ধ করতে আলটিমেটাম দেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা হাফেজ মো. নুরুল হুদা, সভাপতি গোলাম রব্বানী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী, শিক্ষক ও সাংবাদিক শাহাবাজ উদ্দিন, জামে আরাবিয়া মাদরাসার মুহতামিম ইলিয়াস রিয়াজী, নয়াবাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা জিল্লুর রহমান প্রমুখ।
এসময় কর্মসূচীতে সংহতি প্রকাশ করে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।বক্তারা বলেন, প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি উত্থাপন এবং ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পরও মেলায় র্যাফেল ড্র, জুয়া ও অশ্লীল কর্মকাণ্ড বন্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে গত ৬ জুলাই ‘সচেতন জনতা সৈয়দপুর’-এর সভাপতি গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি নীলফামারী জেলা প্রশাসক ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে ১১ জুলাই একই দাবিতে স্থানীয় তামান্না মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে এসব আন্দোলন ও ফেসবুকে প্রচারণার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) মেলা প্রাঙ্গনে সংবাদ সম্মেলন করে মেলা কমিটি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। মেলার আয়োজকদের প্রধান সৈয়দপুরের সন্তান দেশখ্যাত মৃত্যুকুপে মোটর সাইকেল ও কার ড্রাইভিং এক্সপার্ট এস এম রাশেদ বলেন, মেলায় কোন প্রকার জুয়া, লটারী বা অসামাজিক কার্যকলাপ চলেনা।
অথচ তারা মিথ্যে অভিযোগ তুলে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে মূলত: সৈয়দপুরেরই সুনাম ক্ষুন্ন করছেন তারা। আর মেলায় প্রবেশ টিকিটের উপর র্যাফেল ড্র যথাযথ অনুমতি নিয়েই করা হচ্ছে। এতে আমরা অর্ধেক লাভ দর্শনার্থীদের জন্য পুরষ্কার হিসেবে দিয়ে দিচ্ছি। এর ফলে সৈয়দপুরবাসীই উপকৃত হচ্ছেন। কিন্তু এটাকে নিয়ে কেউ কেউ স্বার্থ হাসিলে ব্যার্থ হয়েই এই জঘন্য অপপ্রচারে মেতে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন।

