ফুটবল মাঝে মধ্যেই এমন সব গল্প উপহার দেয়, যা কল্পনাকেও হার মানায়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম লিওনেল মেসির জীবনের তেমনই এক আবেগঘন অধ্যায়ের সাক্ষী। এক দশক আগে এই মাঠেই শিরোপা হাতছাড়া করে হতাশায় ভেঙে পড়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। আজ, ঠিক সেই স্টেডিয়ামেই বিশ্বকাপের ফাইনালে নামছেন তিনি, সামনে আরেকটি ইতিহাস লেখার সুযোগ।
২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার শতবর্ষী আসরের ফাইনালে চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় পেনাল্টি শুটআউটে। প্রথম শট নিতে এসে মেসির নেওয়া বল উড়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। শিরোপা হারানোর সেই রাতেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে গোটা ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেন তিনি।
তার সেই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল টানা তিনটি বড় ফাইনালে হারার যন্ত্রণা—২০১৪ বিশ্বকাপ, ২০১৫ কোপা আমেরিকা এবং ২০১৬ কোপা আমেরিকা। বারবার শিরোপার এত কাছে গিয়েও ব্যর্থতা মেনে নিতে পারেননি মেসি।
কিন্তু গল্প সেখানেই শেষ হয়নি। সতীর্থ, কোচ এবং কোটি সমর্থকের অনুরোধে জাতীয় দলে ফিরে আসেন তিনি। এরপর শুরু হয় তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়।
২০২১ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটান মেসি। এরপর জেতেন ফিনালিসিমা। আর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে পূরণ করেন নিজের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।
যে ফুটবলারকে একসময় আন্তর্জাতিক ট্রফিহীন বলে সমালোচনা করা হতো, তিনিই এখন দেশের ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক। ভাগ্যের পরিহাসে সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামই আবারও তার সামনে এনে দিয়েছে নতুন এক সুযোগ।
তবে এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ আলাদা। ১০ বছর আগের হতাশ মেসির বদলে এখন মাঠে নামবেন আত্মবিশ্বাসী এক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক। তার সামনে রয়েছে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে লেখার সুযোগ।
একসময় যে মাঠ ছেড়েছিলেন অশ্রুসিক্ত চোখে, আজ সেই একই মাঠ থেকেই হাসিমুখে আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন দেখছেন লিওনেল মেসি।

