বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালকে ঘিরে উত্তেজনা এখন শুধু ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়, ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে স্পেন ও আর্জেন্টিনা শিরোপার লড়াইয়ে নামার আগে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায়ও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমর্থক স্পেনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নে স্পেন সরকারের রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থানের কারণেই দেশটির প্রতি তাদের এই আবেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। সে সময় প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছিলেন, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে এগিয়ে নেওয়া, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং গাজায় মানবিক সহায়তা জোরদার করাই ছিল এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
স্পেন জাতীয় দলের কয়েকজন ফুটবলার এবং কোচও বিভিন্ন সময়ে গাজার মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। ফিলিস্তিনিদের কাছে এসব পদক্ষেপ কেবল ক্রীড়া নয়, বরং মানবিক সংহতির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
গাজার প্রতিবন্ধী ফুটবল দল গাজা আল-ইরাদার প্রধান কোচ হাতেম আল মাগরিবি বলেন, ফিলিস্তিনের অনেক মানুষই চান স্পেন বিশ্বকাপ জিতুক। তার ভাষায়, যুদ্ধ অনেকের শারীরিক ক্ষতি করলেও যারা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ইচ্ছা হারিয়ে যায়নি।
তবে যুদ্ধের বাস্তবতা গাজার মানুষের জন্য বিশ্বকাপ উপভোগ করাও কঠিন করে তুলেছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত, বিদ্যুৎ সংকট এবং জ্বালানির অভাবে অনেক পরিবার নিয়মিত ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছে না।
গাজার সাবেক ফুটবলার ও স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপক আদনান আল আফিফি জানান, বিদ্যুৎ থাকলে তবেই মানুষ খেলা দেখতে পারেন। কিন্তু জ্বালানির উচ্চমূল্য ও সংকটের কারণে জেনারেটর চালানোও অনেকের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতির মধ্যেও ফুটবলের আবহ ধরে রাখতে গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে দুটি প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে স্পেন ও ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো অংশ নেয়। আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা দিতে প্রতীকী ভিএআর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। আয়োজকদের মতে, এটি ছিল স্পেনের প্রতি সমর্থন এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের একটি বিশেষ উদ্যোগ।
অন্যদিকে, ফাইনালের আগে প্রকাশ্যে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আর্জেন্টিনা দলের জন্য শুভকামনা জানান এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন।
এভাবে বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমর্থন ও কূটনৈতিক বার্তার ভিন্ন এক চিত্র ফুটে উঠেছে।

