শাহাদাৎ বাবু, নোয়াখালী সংবাদদাতা:
নোয়াখালী সদরের মাইজদী থেকে চুরি হওয়া সাংবাদিকের মোটরসাইকেল মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই উদ্ধার করে দিল নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানা পুলিশ। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় চোর চক্রের দুই সদস্যকে, উদ্ধার করা হয় আরো একটি মোটরসাইকেল। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কাঞ্চন মেম্বারের পুল এলাকা থেকে এ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, দক্ষিণ হাতিয়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. ফয়সাল (৩৫) ও সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরলিয়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩২)।
সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, গত ১২ জুলাই রাত ১০টার দিকে নোয়াখালী জেলা শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেলটি চুরি হয়। পরদিন এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। এছাড়াও দুই মাস আগে সোনাপুর থেকে চুরি হওয়া জয়দেব নামে এক যুবকের মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ রয়েছে থানায়।
শুক্রবার চোরচক্রের সদস্য ফয়সাল মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার কথা বলে জয়দেবের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিয়ের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। তবে টাকা পাওয়ার পরও মোটরসাইকেল ফেরত দিতে গড়িমসি করে ফয়সাল।
এক পর্যায়ে আরও টাকা দেওয়ার কথা বলে জয়দেব ও তার বন্ধুরা কৌশলে ফয়সাল ও জাহাঙ্গীরকে ডেকে নিয়ে পুলিশে খবর দেন। এ সময় সুধারাম মডেল থানার এসআই ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় সাংবাদিক আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেলটি। পরে রাতে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জয়দেবের মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করে পুলিশ। ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ফয়সাল ও জাহাঙ্গীর আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য।
ফয়সালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১১টি এবং জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে এক জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরির পর অন্য জেলায় পাচার করে আসছে। তারা নোয়াখালী থেকে গত কয়েকদিনে আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় করা দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুজনকে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

