২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন স্লোভেনিয়ার অভিজ্ঞ রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। ইউরোপের অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে পরিচিত ভিনচিচের ওপরই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে ফিফা। তবে এই নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ২০২০ সালের একটি বিতর্কিত ঘটনা।
২০২০ সালের মে মাসে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিজেলজিনা শহরের কাছে একটি রিসোর্টে মাদক ও মানবপাচার–সংশ্লিষ্ট একটি অভিযানে পুলিশ প্রায় ৩৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকায় স্লাভকো ভিনচিচকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, রেফারি ভিনচিচ ওই অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত। তবে তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পরে ভিনচিচ নিজেই এক বিবৃতিতে জানান, তিনি একটি ব্যবসায়িক আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলেন এবং কী ধরনের আয়োজন ছিল, সে সম্পর্কে আগে থেকে কিছুই জানতেন না। পুলিশ তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার পর তাকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। ফলে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত হন এবং পরবর্তীতে স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক ম্যাচে রেফারিং চালিয়ে যান।
এরপর থেকেই নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে বিতর্ককে অনেকটাই পেছনে ফেলে দেন ভিনচিচ। তিনি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, নেশনস লিগ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। তার নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা এবং চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকার সক্ষমতার জন্য তিনি প্রশংসিত।
এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে দায়িত্ব পাওয়াও সেই ধারাবাহিকতারই স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব সাধারণত এমন রেফারিকেই দেওয়া হয়, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে সফলতা দেখিয়েছেন।
তবে ফাইনালের দায়িত্ব ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ২০২০ সালের সেই ঘটনার প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। যদিও বাস্তবতা হলো, ওই ঘটনায় ভিনচিচের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি এবং তিনি কোনো মামলায় দোষীও সাব্যস্ত হননি।
সব বিতর্ক পেছনে ফেলে এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সফলভাবে পরিচালনা করা। ফুটবলপ্রেমীদের নজর যেমন দুই দলের তারকা ফুটবলারদের দিকে থাকবে, তেমনি ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতেও থাকবে অভিজ্ঞ এই স্লোভেনিয়ান রেফারির ওপর।

