স্পোর্টস ডেস্ক:
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে যখন ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন দলগত শিরোপার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনের দিকেও সমান নজর ভক্তদের। বিশেষ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এখনো অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার তিনি।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন এমবাপ্পে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একের পর এক গোল করে তিনি ফ্রান্সকে ফাইনালের মঞ্চে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। তার গতি, নিখুঁত ফিনিশিং এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে ফেলার ক্ষমতা আবারও প্রমাণ করেছে কেন তাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড বলা হয়।
গোল্ডেন বুটের হিসাব শুধুমাত্র গোলসংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। একাধিক খেলোয়াড় সমান গোল করলে তখন অ্যাসিস্ট এবং মাঠে কম সময় খেলার ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। ফলে ফাইনালে একটি গোল কিংবা একটি অ্যাসিস্টও পুরো সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
এমবাপ্পের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অন্য শীর্ষ গোলদাতাদের টপকে যাওয়া কিংবা নিজের অবস্থান ধরে রাখা। ফাইনালে প্রতিটি আক্রমণ, প্রতিটি শট এবং প্রতিটি গোল তাই তার জন্য বাড়তি গুরুত্ব বহন করবে।
মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলে অসাধারণ সব কীর্তি গড়েছেন এমবাপ্পে। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২২ আসরেও তিনি গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। এবারও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর সুযোগ রয়েছে তার সামনে। টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের বিরল কীর্তি গড়তে পারলে সেটি ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
অন্যদিকে, ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে দলের সাফল্যকেই সবসময় বেশি গুরুত্ব দেন এমবাপ্পে। তবে একজন স্ট্রাইকার হিসেবে গোল করা তার দায়িত্ব, আর সেই গোলই যদি ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি তাকে গোল্ডেন বুট এনে দেয়, তাহলে সেটি হবে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন।
এখন সবকিছুর উত্তর মিলবে বিশ্বকাপের মহারণে। ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পরই জানা যাবে—বিশ্বসেরার মুকুটের পাশাপাশি গোলের রাজাও কি হচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, নাকি শেষ মুহূর্তে বদলে যাবে পুরো হিসাব।

