অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের এক বাসিন্দা তার ১৮ বছর বয়সী নিখোঁজ মেয়েকে উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ঘটনায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত আবেদনে রহিমা বেগম, স্বামী মো. মহসিন, গ্রামের বাড়ি মুক্তারামপুর (কোরশ মো. হাজি বাড়ি), ডাকঘর পূর্ব বিজয়নগর, ৬ নম্বর ওয়ার্ড, ১ নম্বর উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা, উল্লেখ করেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর ঢাকায় যাওয়ার সময় তার ছোট মেয়ে সাজিয়া আফরিন তৃপ্তি (১৮) বাড়িতে অবস্থান করছিল।
তিনি জানান, ওই দিন বিকেলে ঢাকায় পৌঁছে স্বামীর মোবাইল ফোনে বাড়ির খোঁজখবর নিতে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, তৃপ্তি পাশের কালিবাজার এলাকায় গিয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। এরপর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। তবে কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রহিমা বেগম আরও জানান, খবর পেয়ে তিনি ঢাকায় চিকিৎসা ফেলে দ্রুত বাড়ি ফিরে আসেন। পরে আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও মেয়ের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শে ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর ২৯১।
তার দাবি, জিডির তদন্তের দায়িত্ব এসআই সোহেল রানার ওপর অর্পণ করা হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও মেয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, তদন্তের অগ্রগতি জানতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সন্তোষজনক কোনো তথ্য পাননি। এতে পরিবারটি চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
নিখোঁজ তৃপ্তির মা বলেন, “আমার মেয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আমরা প্রতিদিন উদ্বেগের মধ্যে আছি। প্রশাসনের কাছে একটাই অনুরোধ, যেন দ্রুত তাকে খুঁজে বের করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে রহিমা বেগম প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মেয়েকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন -আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। তৃপ্তি মোবাইল ব্যবহার না করার কারনে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তৃপ্তি ঢাকায় থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এ তদন্ত কর্মকর্তা।

